১৮ আগস্ট ২০২৬, ২১:৫৭

হাবিপ্রবিতে সহকারী প্রক্টরের ওপর হামলা: তিন মাসেও হয়নি চূড়ান্ত শাস্তি

হাবিপ্রবি লোগো   © টিডিসি সম্পাদিত

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) সহকারী প্রক্টরের ওপর হামলা, দুই হলের সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনার প্রায় তিন মাস পার হলেও অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে স্থায়ী শাস্তির সিদ্ধান্ত এখনো কার্যকর হয়নি। প্রশাসনের নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আপাতত সাময়িক বহিষ্কারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মে শহীদ আবরার ফাহাদ হল ও শহীদ নূর হোসেন হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় হলের বিভিন্ন কক্ষে ভাঙচুরের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মবিনুল ইসলামের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর রাতেই জড়িত থাকার অভিযোগে ৩১ শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

পরে অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগ যাচাই-বাছাই ও তদন্তের পর গত ১ জুলাই ৬৬ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা সংক্রান্ত একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। এতে ছয়জনকে আজীবন বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়। অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ ভাঙচুরের ঘটনায় আর্থিক জরিমানার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

একই সঙ্গে অভিযুক্তদের কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, সে বিষয়ে ১০ দিনের মধ্যে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্য ও অধিকতর তদন্ত পর্যালোচনা করে রিজেন্ট বোর্ডের মাধ্যমে চূড়ান্ত শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছিল প্রশাসন।

তবে তালিকা প্রকাশের প্রায় দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও স্থায়ী শাস্তির বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কবে নাগাদ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শাস্তি কার্যকর হবে, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

এদিকে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় আট শিক্ষার্থীসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১২০ জনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

স্থায়ী শাস্তির বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. এস. এম. এমদাদুল হাসান বলেন, “এ বিষয়ে কাজ চলমান রয়েছে। খুব দ্রুত একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বশীল একাধিক শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্প্রতি প্রশাসনিক বিভিন্ন পদে পরিবর্তন ও রদবদলের কারণে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে আবারও কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে অভিযুক্তদের স্থায়ী শাস্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলেও তাঁরা জানিয়েছেন।