দেড় বছরেও প্রকাশ্যে আসেনি নোবিপ্রবি ছাত্রশিবিরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রকাশ্য সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার প্রায় দেড় বছর পার হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ্যে ঘোষণা করেনি সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংগঠনটির সাংগঠনিক কাঠামো ও কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
দীর্ঘ সময় গোপনে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার পর গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দ প্রকাশ্যে আসেন। ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর ১৯তম আবর্তনের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো শাখাটির সভাপতি ও সেক্রেটারি প্রকাশ্যে আসেন বলে জানা যায়।
এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে ক্যাম্পাসে সাংগঠনিক কার্যক্রম, বিভিন্ন কর্মসূচি ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজন পরিচালনা করে আসছে সংগঠনটি। তবে প্রকাশ্যে কার্যক্রম পরিচালনার দেড় বছর পার হলেও এখনো শাখাটির পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।
সংগঠনটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এক পোস্টের সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সেশনের জন্য নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি নির্বাচন ও সেক্রেটারি মনোনয়নের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে শাখাটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আরিফুর রহমান সৈকত এবং সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আব্দুর রহমান।
সাধারণত বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের আংশিক কমিটি ঘোষণার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন ও প্রকাশ করা হলেও নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবিরের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময়েও তা প্রকাশ্যে না আসায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
ক্যাম্পাসে সংগঠনটির বিভিন্ন কার্যক্রম দৃশ্যমান হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে কারা কোন দায়িত্বে রয়েছেন, তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করায় সংগঠনটির সাংগঠনিক কাঠামো সম্পর্কে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্পষ্ট ধারণার অভাব রয়েছে। একই সঙ্গে পরিচয় প্রকাশ না করে সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ‘শিবির ট্যাগ’ দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নোবিপ্রবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি আরিফুর রহমান সৈকত বলেন, ‘যেহেতু দীর্ঘদিন ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের একটা বিষয় ছিল, সেই বিধি নিষেধের প্রতি লক্ষ্য রেখে আমরা আনুষ্ঠানিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি করিনি। সম্প্রতি যেহেতু বিধিনিষেধের সময়সীমা শেষ হয়েছে এবং সামনে হয়তো উঠে যাবে। আমাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রস্তুত আছে, সামনে অফিসিয়ালি আমরা ঘোষণা দিব।’
নিজেদের কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীবান্ধব অনেকগুলো কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি, সেখানে শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করেছে। যা আমাদের প্রতি শিক্ষার্থীদের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। সামনেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে, কে কি বললো এতে কিছু যায় আসে না।’