০৩ আগস্ট ২০২৬, ১১:১৩

জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে বৈশ্বিক জার্নাল থেকে গোবিপ্রবির ৬ গবেষণাপত্র প্রত্যাহার

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়  © ফাইল ছবি

গবেষণাপত্রে তথ্যের অসংগতি, জালিয়াতি, অবিশ্বস্ত ফলাফল, ভুয়া পিয়ার রিভিউসহ নানা গুরুতর অভিযোগে আন্তর্জাতিক জার্নাল থেকে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ছয়টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন শিক্ষকের নাম রয়েছে দুটি প্রত্যাহারকৃত গবেষণাপত্রে। আর বাকি চারটি গবেষণাপত্রে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন সাবেক শিক্ষার্থীর নাম।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিকভাবে গবেষণাপত্র প্রত্যাহার এবং সংশ্লিষ্ট সম্পাদকীয় নোটিশ সংরক্ষণকারী রিট্রাকশন ওয়াচের ডাটাবেজ বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে। প্রকাশকদের দেওয়া নোটিশে গবেষণাপত্রগুলো প্রত্যাহারের কারণ হিসেবে ভুয়া বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন, তথ্য ও ফলাফলের অসংগতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা কম্পিউটার-সৃষ্ট কনটেন্টের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, সাইটেশন কারসাজি এবং তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের মতো গুরুতর অনিয়মের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

রিট্রাকশন ওয়াচের তালিকা অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১১ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ২০ জুন পর্যন্ত সময়ে গোবিপ্রবি-সংশ্লিষ্ট ছয়টি গবেষণাপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়। গবেষণাপত্রগুলো ২০২২ সাল থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত হয়েছিল। 

সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরবিপ্রবি)। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোবিপ্রবি) রাখা হয়।

প্রকাশকদের দেওয়া নোটিশে গবেষণাপত্রগুলো প্রত্যাহারের কারণ হিসেবে ভুয়া বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন, তথ্য ও ফলাফলের অসংগতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা কম্পিউটার-সৃষ্ট কনটেন্টের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, সাইটেশন কারসাজি এবং তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের মতো গুরুতর অনিয়মের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। রিট্রাকশন ওয়াচের তালিকা অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১১ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ২০ জুন পর্যন্ত সময়ে গোবিপ্রবি-সংশ্লিষ্ট ছয়টি গবেষণাপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়।

প্রত্যাহারকৃত গবেষণাপত্রগুলোর মধ্যে গণিত বিভাগের ২টি, বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের ২টি, বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২টি (একটি বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের সঙ্গে যৌথভাবে) এবং ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১টি গবেষণাপত্র রয়েছে।

ডাটাবেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ছয়টি গবেষণাপত্রের মধ্যে সর্বোচ্চ পাঁচটিতেই তথ্য ও ফলাফলের অসংগতি এবং অবিশ্বস্ততা ছিল প্রত্যাহারের প্রধান কারণ। এছাড়া তিনটি গবেষণাপত্রে ভুয়া বা প্রভাবিত বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন এবং এআই বা কম্পিউটার-সৃষ্ট কনটেন্টের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। দুটি গবেষণাপত্রে সন্দেহজনক প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় এবং তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।

তালিকা অনুযায়ী, সর্বোচ্চ দুটি প্রত্যাহারকৃত গবেষণাপত্রে নাম রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারিয়া আহমেদ শামির। ‘Notion of Complex Spherical Fuzzy Graph with Application’ এবং ‘The Reformulated F-Index of Vertex and Edge F-Join of Graphs’ শীর্ষক গবেষণাপত্র দুটি অপ্রাসঙ্গিক তথ্যসূত্র ব্যবহার, তথ্য ও ফলাফলের অসংগতি, অবিশ্বস্ততা, ভুয়া বা প্রভাবিত বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন, এআই বা কম্পিউটার সৃষ্ট কনটেন্টের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের অভিযোগে প্রত্যাহার করা হয়।

এছাড়া বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৫–১৬ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী তানজিম ইশরাক রহমানের ‘COVID-19 in Bangladesh: Wave-centric Assessments and Mitigation Measures for Future Pandemics’ এবং ‘Advanced Implications of Nanotechnology in Disease Control and Environmental Perspectives’ শীর্ষক দুটি গবেষণাপত্র সন্দেহজনক প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়, তথ্য ও ফলাফলের অসংগতি এবং অবিশ্বস্ততার অভিযোগে প্রত্যাহার করা হয়েছে। 

এর মধ্যে দ্বিতীয় গবেষণাপত্রটিতে বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী দীপ্ত দে-এরও নাম রয়েছে। তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত।

এদিকে, ‘Multifaceted Role of Natural Sources for COVID-19 Pandemic as Marine Drugs’ শীর্ষক গবেষণাপত্রটি তথ্য ও ফলাফলের অসংগতি, অবিশ্বস্ততা এবং এআই বা কম্পিউটার-সৃষ্ট কনটেন্টের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের অভিযোগে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী শেখ সোহাগের নাম রয়েছে। তিনি বর্তমানে জাপানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত।

‘The Experimental Significance of Isorhamnetin as an Effective Therapeutic Option for Cancer: A Comprehensive Analysis’ শীর্ষক গবেষণাপত্রটি সন্দেহজনক প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়, তথ্য ও ফলাফলের অসংগতি এবং অবিশ্বস্ততার অভিযোগে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী মো. হাসিবুল হাসানের নাম রয়েছে। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত।

আরও খবর: এক দফা দাবি ও অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী নেতারা

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. শামসুল আরেফিন বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছয়টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। আমরা বিষয়টি দেখেছি। মূলত একটি গবেষণাপত্র নানা কারণে রিট্র্যাক্টেড হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘কারণগুলো যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই না করে আগে থেকেই কোনো মন্তব্য করা বা পদক্ষেপ নেওয়া সমীচীন হবে না। আগে সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন। তদন্ত শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুস সাদাত বলেন, ‘এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বিষয়। বিষয়টি জানার পর আজই আমি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছি। যাদের গবেষণাপত্র প্রত্যাহার হয়েছে, তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নিতে বলা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘তাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে চাইব, কী কারণে গবেষণাপত্রগুলো রিট্র্যাক্ট করা হয়েছে। যদি কোনো ধরনের অসদুপায়ের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’