০১ আগস্ট ২০২৬, ২০:৪৩

আন্তর্জাতিক জার্নাল থেকে যবিপ্রবির ১১ গবেষণাপত্র বাতিল, এক শিক্ষকের নাম ৭টিতে 

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) লোগো  © সংগৃহীত ও সম্পাদিত

গবেষণাপত্রে লেখকত্ব বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় নিয়ে সমস্যা, তথ্যসূত্র বা রেফারেন্স সংক্রান্ত সমস্যা, চিত্র সংক্রান্ত অসঙ্গতি বা ডুপ্লিকেশন, অবিশ্বস্ত ফলাফল বা উপসংহারসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ১১টি গবেষণাপত্র বিভিন্ন সময় বিশ্বের বিভিন্ন জার্নাল থেকে প্রত্যাহার হয়েছে। এর মধ্যে একজন শিক্ষকের নামই রয়েছে ৭ টি প্রত্যাহারকৃত গবেষণাপত্রে। 

আন্তর্জাতিকভাবে গবেষণাপত্র প্রত্যাহার ও সংশ্লিষ্ট সম্পাদকীয় নোটিশ সংরক্ষণকারী রিট্রাকশন ওয়াচ ডাটাবেইজে সম্প্রতি অনুসন্ধান করলে এ তালিকা পাওয়া যায়। তালিকায় যবিপ্রবির জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, নার্সিং অ্যান্ড হেলথ সায়েন্স, ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্সসহ একাধিক বিভাগের গবেষকদের নাম রয়েছে।

তালিকার তথ্য অনুযায়ী প্রত্যাহারকৃত ৭টি গবেষণাপত্রে নাম পাওয়া গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আমজাদ হোসেনের। অপ্রাসঙ্গিক তথ্যসূত্র, প্রত্যাহার সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তির জবাব না দেওয়াসহ নানা অভিযোগে অধ্যাপক ড. মো. আমজাদ হোসেনের ‘Rapid hydrothermal synthesis of mesoporous NiS2 and NiSe2 nanostructures for wastewater treatment’ শিরোনামের গবেষণাপত্রটি প্রত্যাহার করা হয়। এছাড়া আরও আলাদা ৬ টি প্রত্যাহারকৃত গবেষণাপত্রেও নাম রয়েছে তার।

এছাড়া অপ্রাসঙ্গিক তথ্যসূত্র, সন্দেহজনক প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় ও গবেষণায় লেখকদের অবদানের ব্যাখ্যা ও প্রমাণ দিতে ব্যার্থ হওয়ার অভিযোগে ‘The experimental significance of isorhamnetin as an effective therapeutic option for cancer: A comprehensive analysis’ শিরোনামে এই গবেষণাপত্রটি প্রত্যাহার করা হয়। এই গবেষণা পত্রে যবিপ্রবির বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি নাম রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড.মোঃ নাজমুল হাসানের। ড. হাসানের আরো একটি প্রত্যাহারকৃত গবেষণাপত্রের শিরোনাম হলো ‘Advanced implications of nanotechnology in disease control and environmental perspectives’

আরো ১টি করে প্রত্যাহারকৃত গবেষণাপত্রে নাম রয়েছে ফিসারিজ এন্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের সহকারি অধ্যাপক সারোয়ার ই মাহফুজ এবং নার্সিং এন্ড হেলথ সায়েন্স বিভাগের প্রভাষক অঞ্জন কুমার রায় এর।

এ বিষয়ে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, আমরা এ বিষয়টি যাচাই বাছাই করব এবং কোনো ত্রুটি পেলে সে বিষয়ে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, গবেষণাপত্র প্রত্যাহার হলে মূল নিবন্ধে রিট্রাকশন নোটিশ যুক্ত হয়। জার্নাল কর্তৃপক্ষ পেপারটি কেন বাতিল হলো তার কারণ দর্শিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক নোটিশ প্রকাশ করে, যা স্কোপাস বা পিউমেডের মতো আন্তর্জাতিক ইনডেক্সে স্থায়ীভাবে থেকে যায়। এতে করে ভবিষ্যতে গবেষণা অনুদান পাওয়ার সুযোগ কমে যায় এবং একাডেমিক রেকর্ড থেকে গবেষণার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হয়।