ওটি নেই, শেড নেই, আধুনিক যন্ত্রপাতির সংকট, চ্যালেঞ্জে হাবিপ্রবির ভেট হাসপাতাল
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ভেটেরিনারি অনুষদের অধীনে ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতাল দীর্ঘদিন ধরে ভেটেরিনারি শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শিক্ষা প্রদানের পাশাপাশি নামমাত্র মূল্যে প্রাণীর চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে। তবে বর্তমানে রোগীর ক্রমবর্ধমান চাপের প্রেক্ষাপটে হাসপাতালটিতে নানা ধরনের অবকাঠামোগত ও সেবাগত সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, চিকিৎসা নিতে আসা অসুস্থ প্রাণীর জন্য কোনো শেড নেই। এ ছাড়া হাসপাতালটিতে নেই নিজস্ব অপারেশন থিয়েটার (ওটি), পোস্ট-অপারেটিভ কেয়ার রুম, আধুনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার। হাসপাতালটিতে একটি পুরোনো এক্স-রে মেশিন থাকলেও সেটি বর্তমানে অকার্যকর।
এ ছাড়া নিয়মিত পরিচ্ছন্নতাকর্মী না থাকায় হাসপাতালের পরিবেশ প্রায়ই অপরিষ্কার থাকে। অন্যদিকে, কক্ষসংকটের কারণে বায়োকেমিক্যাল অ্যানালাইজার ও আল্ট্রাসোনোগ্রাফি মেশিনসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ভেটেরিনারি অনুষদের বিভিন্ন বিভাগে রাখা হয়েছে। ফলে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতালের পরিচালক ও অণুজীববিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ডা. খালেদ হোসেন বলেন, ‘আমাদের এক্স-রে মেশিন অনেক পুরোনো, যেগুলোতে ঝুঁকিও অনেক বেশি। বর্তমানে বাজারে আধুনিক পোর্টেবল এক্স-রে মেশিন রয়েছে। সেগুলো আমাদের কিনতে হবে। বর্তমানে ওটি করার মতো পর্যাপ্ত জায়গা আমাদের নেই। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং অন্তত একটি কক্ষ পেলে আমরা নিজস্ব ওটি চালু করতে পারব। আপাতত সার্জারি বিভাগের ওটি ব্যবহার করছি। পাশাপাশি প্রশাসনের কাছে একটি ওটি টেবিলও চেয়েছি।’
পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংকট প্রসঙ্গে বলেন, ‘হাসপাতালের জন্য একজন স্থায়ী পরিচ্ছন্নতাকর্মী অত্যন্ত প্রয়োজন। এ বিষয়ে আমরা প্রশাসনের কাছে চিঠি দিয়েছি। আপাতত ভান্ডার শাখার মাধ্যমে মাসে একবার কর্মী আনা হয়।’
মেশিনগুলো অনুষদের বিভিন্ন বিভাগে রাখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যন্ত্রপাতি রাখার জন্য হাসপাতালে পর্যাপ্ত কক্ষ নেই। তাছাড়া এগুলো পরিচালনার জন্য দক্ষ টেকনিশিয়ানেরও প্রয়োজন। বর্তমানে এ বিষয়ে অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান না থাকায় বায়োকেমিক্যাল অ্যানালাইজার ও আল্ট্রাসোনোগ্রাফি মেশিন সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।’
বিদ্যমান সমস্যাগুলোর টেকসই সমাধান ও উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্ল্যানিং, ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ওয়ার্কস সেকশনের পরিচালক অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান বাহাদুর বলেন, ‘এসব বড় বিষয়ের বাজেটের জন্য কর্তৃপক্ষকে অবগত করতে হয়। এরপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এবার আমরা কাজটি করব কি না। গত দুই বছর আমাদের বিভিন্ন অগ্রাধিকার ছিল। অনেক অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেছি। তাছাড়া বাজেটও সীমিত ছিল। এখন কর্তৃপক্ষ যদি কোনো খাত থেকে বাজেট স্থানান্তর করে, তাহলে কাজটি করা সম্ভব হবে। তবে আশা করা যায়, ২০২৬–২৭ অর্থবছরে বেশ কিছু বাজেট আসবে তাই বিষয়টি আমাদের ভাবনায় রয়েছে।’