৩১ জুলাই ২০২৬, ২১:৫১

বৃষ্টি হলেই ডুবে যায় যবিপ্রবির একমাত্র খেলার মাঠ

যবিপ্রবি লোগো  © টিডিসি

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) একমাত্র কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে সামান্য বৃষ্টি হলেই তৈরি হয় জলাবদ্ধতা। মুহূর্তেই মাঠটি যেন ধানক্ষেত বা কর্দমাক্ত মাঠে পরিণত হয়। ফলে খেলাধুলার পাশাপাশি শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান (পিইএসএস) বিভাগের ব্যবহারিক ক্লাস এবং মাঠভিত্তিক অন্যান্য কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। 

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সঠিক পরিচর্যা, মাঠ সমতলকরণ ও কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবে বছরের অধিকাংশ সময় মাঠটি আংশিক বা পুরোপুরি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এক পশলা বৃষ্টিতেই মাঠের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে ছোট ছোট জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও কাদা এতটাই বেশি যে সেখানে হাঁটাচলাও কষ্টকর। মাঠের মাঝখানে কাদার স্তর জমে রয়েছে। দীর্ঘদিন পরিচর্যার অভাবে মাঠের ঘাসও অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে গেছে। ভলিবল খেলার নির্ধারিত স্থানেও পানি জমে রয়েছে। সম্প্রতি কয়েক ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে পুরো মাঠ পানির নিচে তলিয়ে যায়।

প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষার্থীর জন্য এটিই বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ। ফলে মাঠের এমন বেহাল অবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, মাঠ সমতলকরণ, আধুনিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্থাপন এবং দ্রুত সংস্কারের মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হোক, যাতে সারা বছর নির্বিঘ্নে খেলাধুলা ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়।

এআইএস বিভাগের শিক্ষার্থী অংকন তালুকদার বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠ আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সামান্য বৃষ্টিতেই মাঠে পানি জমে কাদায় পরিণত হয়। একই মাঠে ফুটবল ও ক্রিকেট খেলা হওয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি হয়। মাঠে কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, নিয়মিত পরিচর্যা, মাঠ সমতলকরণ এবং বিকল্প খেলার মাঠের ব্যবস্থা জরুরি। পাশাপাশি আন্তঃবিভাগীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট পুনরায় চালুর আগে মাঠটি সংস্কার করে খেলার উপযোগী করা উচিত।

পিইএসএস বিভাগের শিক্ষার্থী অসীম রায় বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই মাঠে পানি জমে যায়। বড় ঘাস ও কাদার কারণে আমাদের ব্যবহারিক ক্লাস ব্যাহত হচ্ছে। একই মাঠে ক্লাস ও খেলাধুলা চলায় প্রায়ই জায়গার সংকট তৈরি হয়। তাই ব্যবহারিক ক্লাসের জন্য আলাদা মাঠ বা নির্ধারিত স্থান এবং কেন্দ্রীয় মাঠের দ্রুত সংস্কার জরুরি।

এ বিষয়ে শরীরচর্চা শিক্ষা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. শাহেদুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠের পরিচর্যা, রক্ষণাবেক্ষণ ও পানি নিষ্কাশনের কাজ আমাদের দপ্তরের নয়। খেলা বা টুর্নামেন্ট চলাকালে মাঠের উপযোগিতা বজায় রেখে খেলা পরিচালনা করাই আমাদের দায়িত্ব। তবে বিষয়টি আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি। প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠটি সারা বছর খেলাধুলার উপযোগী রাখতে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন, তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে কাজটি কবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে, তা কাজের পরিধি ও বরাদ্দকৃত বাজেটের ওপর নির্ভর করবে। মাঠ সমতল করতে ঠিক কতটুকু মাটি প্রয়োজন, তা এই মুহূর্তে নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের পরিচালকের সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।