২৬ জুলাই ২০২৬, ২১:১৯

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শিক্ষা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে’: মাভাবিপ্রবি ভিসি

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: রাষ্ট্র, গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভা  © টিডিসি ফটো

জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: রাষ্ট্র, গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বক্তারা গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

রোববার (২৬ জুলাই) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় একাডেমিক ভবনের ১২ তলার সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন জুলাই গণঅভ্যুত্থান উদযাপন কমিটি-২০২৬-এর আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল নাসির।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল করিম। প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস। এ ছাড়া বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মহিউদ্দিন, অ্যাডভোকেট সাঈদা আক্তার, আজাদ খান ভাসানী এবং শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের জাতীয় জীবনের একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। রাষ্ট্র, গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে এই আন্দোলনের শিক্ষা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে মানবিক, জবাবদিহিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে তরুণদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের মাটিতে আর কোনো ফ্যাসিস্টের জন্ম নিতে দেওয়া হবে না। জুলাই আমাদের পরিবর্তনের সুযোগ করে দিয়েছে। বর্তমান সরকারকে এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে গণমানুষের আস্থা অর্জনে কাজ করতে হবে।’

প্রধান আলোচক অধ্যাপক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস বলেন, ‘জুলাই কারও একার অর্জন নয়, এটি সমগ্র জাতির অর্জন। এই গণঅভ্যুত্থান আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শিখিয়েছে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন থাকতে হবে।’

আলোচনা শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে আহত চারজন গেজেটভুক্ত শিক্ষার্থী এবং আন্দোলনে অবদান রাখায় দুই কর্মচারীকেও সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে শহীদ আহনাফ আবীর আশরাফুল্লাহর পরিবারের সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।