২৩ জুলাই ২০২৬, ১৭:২৬

রুয়েট শিক্ষার্থীর সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে বাংলা টিফিনকে শোকজ

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়  © সংগৃহীত

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) ক্যাম্পাসে পরিচালিত ইজারাভিত্তিক খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘বাংলা টিফিন’-এর এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ পাওয়ার পর সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কমিটি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করে প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে শোকজ (কারণ দর্শানোর নোটিশ) প্রদান করেছে।

‎জানা যায়, যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২৩ সিরিজের শিক্ষার্থী সৌভিক মন্ডল (জয়) বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে রুয়েট ছাত্রকল্যাণ দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত ২২ জুলাই সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ২০ মিনিটে বাংলা টিফিনের এক্সটেনশন কাউন্টারে পার্সেল খাবার নিতে গেলে দায়িত্বে থাকা এক কর্মচারীর সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হন। পরে ভেতরের কাউন্টারে গেলে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারও তার সঙ্গে রূঢ় ও অসম্মানজনক ভাষায় কথা বলেন।

‎ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সৌভিক মন্ডল (জয়) বলেন, ‘রুয়েট ক্যান্টিন চালু হওয়ার পর ভেবেছিলাম অন্তত মানসম্মত সেবা পাব। কিন্তু খাবারের মানের কথা বাদ দিলেও তাদের ব্যবহারে কখনোই মনে হয়নি আমি একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। একজন ম্যানেজারের কাছ থেকে এমন রূঢ় ভাষা ও আচরণ কোনো শিক্ষার্থীরই প্রাপ্য নয়।’

‎অভিযোগের পর সুপার শপ কমপ্লেক্স, ক্যাফেটেরিয়া ও শপ বরাদ্দ কমিটি জরুরি বৈঠকে বিষয়টি পর্যালোচনা করে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রুয়েট ক্যানটিনের স্বত্বাধিকারী মো. মুর্শেদ জামানকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিলের নির্দেশ দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। 

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, প্রাথমিক অভিযোগে প্রতীয়মান হয়েছে যে প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীর আচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সুস্থ, নিরাপদ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার পরিপন্থী। এ ছাড়া ইজারা চুক্তির ধারা ৪(২) অনুযায়ী শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণ চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের শামিল। তাই কেন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

‎এ বিষয়ে কমিটির সদস্যসচিব ও রুয়েট ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের উপপরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আবদুল্লাহ্ আল মাহমুদ বলেন, ‘ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগ পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা জরুরি বৈঠকের সিদ্ধান্তক্রমে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছি। পরবর্তীতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

‎তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা রুয়েটের প্রাণ। রুয়েট পরিবারের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী-কারও সঙ্গেই অসদাচরণ মেনে নেওয়ার সুযোগ নেই। এই সকল বিষয়ে রুয়েট প্রশাসন সদা তৎপর।’

‎অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে রুয়েট ক্যানটিনের স্বত্বাধিকারী মো. মুর্শেদ জামানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

‎এর আগে অস্বাস্থ্যকর, নিম্নমানের খাবার পরিবেশনসহ স্বাস্থ্যবিধি না মানার দায়ে জরিমানা করা হয়। এরপরেও ক্যান্টিনের খাবারের মান বৃদ্ধি পাইনি বলে অভিযোগ করে আসছেন শিক্ষার্থীরা।