একনেকে অনুমোদন না মেলায় ঝুলে আছে চাঁবিপ্রবির স্থায়ী ক্যাম্পাস
চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চাঁবিপ্রবি) বহুল প্রতীক্ষিত স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। একনেক অনুমোদন না থাকায় স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের প্রস্তাবিত নথি ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ফলে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত হয়ে পড়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস বাস্তবায়নের কার্যক্রম নতুন করে জটিলতার মুখে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪ নম্বর শাহ্ মাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুগী এলাকায় চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে ৫৮ নম্বর কুমারডুগী মৌজায় মোট ৫৯ দশমিক ৭০৫০ একর জমি অধিগ্রহণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নথি ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু প্রকল্পটি এখনো একনেকে অনুমোদিত না হওয়ায় মন্ত্রণালয় নথি ফেরত পাঠিয়েছে। ফলে একনেকের অনুমোদন ছাড়া ভূমি অধিগ্রহণসহ পরবর্তী কোনো কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নে ভূমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে জমির মূল্য নির্ধারণে অনিয়ম, অতিমূল্যে অধিগ্রহণের অভিযোগ এবং নানা বিতর্কের কারণে সেই উদ্যোগ বাতিল হয়ে যায়। পরে নতুন স্থান হিসেবে শাহ্ মাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুগী এলাকা নির্বাচন করে পুনরায় ভূমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এতে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছিল, কিন্তু একনেক অনুমোদনের জটিলতায় সেই আশাও আপাতত থমকে গেছে।
প্রশাসনিক সূত্রের ভাষ্য, প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হওয়ার পরই ভূমি অধিগ্রহণসহ পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।
এদিকে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহামেদ মানিক এবং চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. জালাল উদ্দিন সদস্য হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের আশা, নতুন সিন্ডিকেট স্থায়ী ক্যাম্পাসের স্থান চূড়ান্তকরণ, ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতা নিরসন এবং একনেক অনুমোদনের বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে কার্যকর সমন্বয় সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বর্তমানে চাঁবিপ্রবির শিক্ষা কার্যক্রম একটি অস্থায়ী ভাড়া ক্যাম্পাসে পরিচালিত হচ্ছে। নিজস্ব ক্যাম্পাস না থাকায় একাডেমিক কার্যক্রম, গবেষণা, আধুনিক ল্যাবরেটরি, শিক্ষার্থীদের আবাসন এবং অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কয়েক বছর পার হলেও স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে তারা একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এর পাশাপাশি অস্থায়ী ক্যাম্পাসের ভবন ভাড়া সংক্রান্ত চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আবাসিক হলের সংকটও শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, এটি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের বিষয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সচেতন মহলের দাবি, চাঁদপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্নের এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আর প্রশাসনিক জটিলতার মধ্যে আটকে রাখা উচিত নয়। দ্রুত প্রকল্পটি একনেকে উপস্থাপন করে অনুমোদন নিশ্চিত, ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন এবং স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণকাজ শুরু করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় দীর্ঘসূত্রতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও সার্বিক উন্নয়ন আরও পিছিয়ে পড়বে।