ছাত্রলীগের সাথে আঁতাতের প্রতিবাদ, রাবিপ্রবি ছাত্রদলের ২ নেতাকে শোকজ
রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও কর্মসূচিতে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে শাখা ছাত্রদলের দুই যুগ্ম আহ্বায়ক ইউনুস ইয়ামিন ও মো. সোলেমান বাদশাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বায়ক কমিটি।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাবিপ্রবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন অর্ণব, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শামস শাহরিয়ার ও সদস্য সচিব জিশান আহমেদের যৌথ স্বাক্ষরে এই শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়।
শোকজ নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত ১৬ জুলাই অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম বিভাগীয় ছাত্র সমাবেশসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিগত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দলীয় কর্মসূচিতে ওই দুই নেতার অনুপস্থিতি ও অসহযোগিতা লক্ষ্য করা গেছে। আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তাদেরকে আহ্বায়ক, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের উপস্থিতিতে লিখিত জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সংসদ বরাবর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুপারিশ করা হবে বলে জানানো হয়।
তবে এই শোকজ নোটিশ জারির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে পালটা অভিযোগ এনেছেন নোটিশ পাওয়া দুই নেতা। তাদের দাবি, কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া কেবল ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণেই তাদেরকে শোকজ করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইউনুস ইয়ামিন বর্তমান সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাথে আঁতাতের অভিযোগ তোলেন। তিনি লিখেন, সদস্য সচিবের ছাত্রলীগের সাথে আঁতাতের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় আমাকে শোকজ দেওয়া হলো। তারা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের অভিযুক্তদের পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দেবে, আর আমরা কথা বলতে পারবো না?
ইয়ামিন আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান কমিটির শীর্ষ নেতাদের অনেকেই গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের আগে মাঠে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না। উলটো তিনি ছাত্রলীগের হামলায় আহত হয়ে রাজনীতি টিকিয়ে রেখেছেন বলে দাবি করেন।
তিনি আরও জানান, কোনো আঞ্চলিক বা শাখা কমিটি নয়, শোকজ বা কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের একচ্ছত্র এখতিয়ার কেবল কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের রয়েছে।
অপর যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সোলেমান বাদশা তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে পরিবারের সংকটের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, তার মা বারডেম হাসপাতালে ভর্তি থেকে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং প্রতিনিয়ত ডায়ালাইসিস ও থেরাপির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। ছোট ভাইয়ের নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও মায়ের চিকিৎসার খরচের জন্য তিনি টিউশন বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন এবং অসুস্থতার জন্য শারীরিক কষ্টে ভুগছিলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, এসব সার্বিক মানবিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আগেই আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন অর্ণবকে অবহিত করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও ব্যক্তিগত আক্রোশ ও গ্রুপিংয়ের জেদ মেটাতে সদস্য সচিব জিশান আহমেদ ও আহ্বায়ক তাকে নোটিশ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশে অংশগ্রহণ, কোটা আন্দোলনে প্রথম সারিতে থাকা এবং দলের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিষ্কৃত হওয়ার মতো ত্যাগের কথা উল্লেখ করে বলেন, জীবনের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে এসে যদি বারবার অ্যাক্টিভ ছাত্রদল হিসেবে প্রমাণ দিতে হয়, তবে আর সেই প্রমাণের দরকার নেই। ব্যক্তিগত আক্রোশ মিটিয়ে নিতে পারেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের অন্তঃকোন্দলে সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের সাথে সমঝোতার অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে বিগত দিনে ত্যাগের শিকার নেতাকর্মীদের মানবিক দিক বিবেচনা না করে শোকজ দেওয়ার ঘটনায় সংগঠনের শৃঙ্খলা ও মূল আদর্শ নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের হস্তক্ষেপেরও দাবি জানিয়েছেন রাবিপ্রবি ছাত্রদলের কয়েকজন।