জুলাই শহিদদের স্মরণে কোনো কর্মসূচি রাখেনি পাবিপ্রবি প্রশাসন
জুলাই শহিদদের স্মরণে এ বছর কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি গ্রহণ করেনি পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি) প্রশাসন। স্মরণসভা, দোয়া মাহফিল কিংবা এ-সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও দেখা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। গত বছর জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন স্মরণমূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হলেও এবার প্রশাসনের নীরবতা চোখে পড়ার মতো।
১৬ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহিদদের স্মরণে কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি বা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। এ নিয়ে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেক শিক্ষার্থীর মতে, দেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িত এই দিনটি উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অন্তত একটি স্মরণসভা, দোয়া মাহফিল বা আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা উচিত ছিল।
শিক্ষার্থীরা জানান, গত বছর জুলাই মাসজুড়ে পাবিপ্রবিতে জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। স্মৃতিচারণ, আলোচনা সভা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে আন্দোলনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত তুলে ধরা হয়। এসব কর্মসূচিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল। তবে এ বছর প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো কর্মসূচি, বিবৃতি বা আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ না থাকায় বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
পাবিপ্রবির জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী মজনু আলম বলেন, 'এই জুলাই আন্দোলনের ফলেই আমরা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। বর্তমান বাস্তবতা সেই আন্দোলনেরই অর্জন। তাই যারা জীবন দিয়ে এই পরিবর্তনের পথ তৈরি করেছেন, তাদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাদের স্মরণে অন্তত একটি কর্মসূচি থাকা প্রয়োজন ছিল।'
জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, 'জুলাই শহিদদের স্মরণে বিশেষ আয়োজন করা উচিৎ। এই আন্দোলনকে 'বাংলাদেশ ২.০' বলে অভিহিত করা হয়। তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই আমরা একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছি। আমরা যদি তাদের স্মরণে কিছুই না করি, তবে তা তাদের প্রতি অকৃতজ্ঞতার পরিচয় হবে। তারা কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য জীবন দেননি; তারা চেয়েছিলেন একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ। তাই তাদের স্মৃতি সংরক্ষণ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।'
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. রাশেদুল হক বলেন, 'আমি বিষয়টি নিয়ে ভেবেছি। জুলাই মাসে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু করা যায় কি না, সে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব। আমি ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলব এবং যত দ্রুত সম্ভব এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের জানাব। জুলাই শহিদদের স্মৃতি ধরে রাখতে প্রতিবছর এই মাসে বিশেষ আয়োজন থাকা উচিত বলে আমি মনে করি।'
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ নিহত হন। পরবর্তীতে দিনটি 'জুলাই শহিদ দিবস' হিসেবে বিভিন্ন পরিসরে স্মরণ করা হয়ে আসছে।