রুয়েট শিক্ষার্থীদের তৈরি শিক্ষা প্রযুক্তিভিত্তিক অ্যাপ ‘চর্চা’ পেল ১০ লাখ টাকার অনুদান
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে গড়ে ওঠা দেশের অন্যতম শীর্ষ শিক্ষা প্রযুক্তিভিত্তিক (এডটেক) স্টার্ট-আপ ‘চর্চা’ জাতীয় পর্যায়ের ‘তারুণ্য, স্টার্ট-আপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতায় ১০ লাখ টাকার অনুদান পেয়েছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী চিন্তা, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ এবং সম্ভাবনাময় স্টার্টআপকে উৎসাহিত করতে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চর্চার প্রতিনিধিদের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাজধানীতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ।
এ বছরের প্রতিযোগিতায় সারাদেশ থেকে মাত্র ছয়টি স্টার্টআপ ১০ লাখ টাকার অনুদান লাভ করে। এছাড়া ১৫টি স্টার্ট-আপ তাদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ প্রদর্শনের জন্য স্টল স্থাপনের সুযোগ পায় এবং মাত্র চারটি স্টার্ট-আপ জাতীয় মঞ্চে নিজেদের সফলতার গল্প তুলে ধরার সুযোগ লাভ করে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, চর্চাই ছিল একমাত্র স্টার্ট-আপ, যা স্টল প্রদর্শন, অনুদান অর্জন এবং স্টার্ট-আপের সফলতার গল্প উপস্থাপন— এই তিনটি বিভাগেই নির্বাচিত হয়ে অনন্য কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে।
২০২১ সালে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় অনুশীলনের সীমাবদ্ধতা অনুভব করে রুয়েটের শিক্ষার্থী রায়হান উল ইসলাম ‘চর্চা’ প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পরবর্তীতে তার সহপাঠী নাফিস রায়হান পিয়াল বিপণন বিভাগের প্রধান এবং বন্ধু আসাদুল্লাহ আল তাবির পরিচালন বিভাগের প্রধান হিসেবে এই উদ্যোগে যুক্ত হন। বর্তমানে রাজশাহী থেকেই ৫০ জনেরও বেশি সদস্যের একটি দল প্ল্যাটফর্মটির গবেষণা, উন্নয়ন ও পরিচালনার কাজ করছে।
চর্চা বাংলাদেশের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (AI) ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বশিক্ষণ প্ল্যাটফর্ম, যা এসএসসি, এইচএসসি, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য তৈরি। প্ল্যাটফর্মটিতে রয়েছে ৩০ লাখেরও বেশি প্রশ্ন, সীমাহীন মডেল পরীক্ষা, সরাসরি অনুশীলনী পরীক্ষা, তাৎক্ষণিক প্রতিযোগিতা, ব্যক্তিগত অগ্রগতি বিশ্লেষণ, মেধাতালিকা, ধারাবাহিক অনুশীলন ব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সমৃদ্ধ শিক্ষাসহায়ক সুবিধা। সম্প্রতি চালু হওয়া চর্চা AI শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই ও তথ্যভাণ্ডারের ভিত্তিতে তথ্যসূত্রসহ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি তাদের দুর্বলতা বিশ্লেষণ করে ব্যক্তিকেন্দ্রিক অনুশীলনের পরামর্শ প্রদান করছে।
প্রকাশের পর থেকেই চর্চা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। বর্তমানে অ্যাপটির স্থাপন সংখ্যা ১৫ লাখেরও বেশি, মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী ৫ লাখের অধিক এবং প্রতি মাসে ২০ লাখেরও বেশি মডেল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ সম্পন্ন হচ্ছে। দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পরীক্ষাভিত্তিক শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ইতোমধ্যে এটি লাখো শিক্ষার্থীর আস্থা অর্জন করেছে।
চর্চার প্রতিষ্ঠাতারা জানান, তাদের লক্ষ্য কেবল একটি পরীক্ষাভিত্তিক অ্যাপ তৈরি করা নয়; বরং প্রযুক্তিনির্ভর, সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য একটি কার্যকর দৈনন্দিন শিক্ষাসঙ্গী তৈরি করা। ভবিষ্যতে আরও উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সুবিধা যুক্ত করে শিক্ষার্থীদের শেখার অভিজ্ঞতাকে আরও কার্যকর ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক করার পরিকল্পনা রয়েছে।
রুয়েট শিক্ষার্থীদের এ অর্জন বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবনী সক্ষমতা, প্রযুক্তিনির্ভর গবেষণা এবং স্টার্ট-আপ সংস্কৃতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, জাতীয় পর্যায়ের এই স্বীকৃতি ভবিষ্যতে রুয়েটের আরও শিক্ষার্থীকে উদ্ভাবন, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ এবং উদ্যোক্তা হওয়ার পথে অনুপ্রাণিত করবে।