০৯ জুলাই ২০২৬, ২০:৫২

বৃত্তি পেলেন মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির ২১২ শিক্ষার্থী

বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের একাংশ  © সংগৃহীত

মেধা ও একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির ২১২ শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ২৮ লাখ টাকার বৃত্তি বিতরণ করা হয়েছে। উপাচার্য মেধাবৃত্তি, বিএমইউ বৃত্তি ও বিশেষ বৃত্তির আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের হাতে চেক ও সনদ তুলে দেওয়া হয়।

বৃহস্পতি (৯ জুলাই) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগের ডিনরা নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির চেক ও সনদ তুলে দেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শিক্ষার্থীদের বৃত্তির জন্য মোট ২৮ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর আওতায় ১১৫ জন শিক্ষার্থীকে উপাচার্য মেধাবৃত্তি হিসেবে মোট ১৬ লাখ ৪১ হাজার টাকা, ৯৩ জন শিক্ষার্থীকে বিএমইউ বৃত্তি হিসেবে ১১ লাখ ১৬ হাজার টাকা এবং ৪ জন শিক্ষার্থীকে বিশেষ বৃত্তি হিসেবে ৪০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। সব মিলিয়ে ২১২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মোট ২৭ লাখ ৯৭ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

মেরিটাইম ল অ্যান্ড পলিসি বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ আফিফ আবরার তাসিন বৃত্তি পেয়ে তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, প্রথমত সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য। আমার এই বৃত্তি প্রাপ্তির পেছনে পড়াশোনার একটি বিশেষ অভিজ্ঞতা ও কৌশল কাজ করেছে। আমি বিশ্বাস করি, কেবল মুখস্থ করে পড়লে কোনো কিছুই শেখা যায় না। বরং প্র্যাকটিক্যাল লাইফে উদাহরণ দেখে শিখলে অনেক কিছুই খুব সহজে ও স্পষ্টভাবে বোঝা যায় এবং তা দীর্ঘ মেয়াদে মনেও থাকে। এই বাস্তবমুখী শিক্ষণ পদ্ধতিই আমাকে আজ এই বৃত্তির পেতে সহযোগিতা করেছে। অনেকেই মনে করেন টেবিলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকলেই বুঝি ভালো করা যায়, কিন্তু সারাদিনব্যাপী পড়ার টেবিলে বসে ঝিমালে কখনোই ভালো ফলাফল আশা করা যায় না। আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, ভালো ফলাফলের জন্য এবং বৃত্তির মতো বড় অর্জন নিশ্চিত করতে রুটিন মাফিক খুব কৌশলের সঙ্গে পড়াশোনা করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য দেন মেরিটাইম ল অ্যান্ড পলিসি বিভাগের শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান প্রিন্স বলেন, ‘এই বৃত্তি শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, এটি আমাদের মেধা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের স্বীকৃতি। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে বড় স্বপ্ন দেখা এবং কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যাবসায়ের পরিচয় দিতে হয়।’

পোর্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড লজিস্টিকস বিভাগের শিক্ষার্থী অন্বেষণা বণিক বলেন, ‘বৃত্তি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জোগায়। বাংলাদেশ সরকার নিয়মিত সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফান্ডিং এর মাধ্যমে গবেষণা ও শিক্ষার্থী ওয়েলফেয়ার এর কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আশা করা যায় বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি তে ভবিষ্যতেও এ স্কলারশিপ প্রোগ্রাম চালু থাকবে।’

সাধারণত প্রতিবছরই উপাচার্য বৃত্তি প্রদান করা হয়। প্রতিটি বিভাগের প্রতি সেমিস্টারের একজন শিক্ষার্থীর সর্বমোট ফলাফল যদি প্রথম,দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান এর মধ্যে থাকে এবং সর্বনিম্ন ৩.৭৫ জিপির মধ্যে থাকে, তবে তারা এ বৃত্তি পেয়ে থাকেন।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি ও আর্থিক সহায়তা প্রদান তাদের একাডেমিক উৎকর্ষ অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ধরনের বৃত্তি শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব, গবেষণার আগ্রহ এবং উচ্চশিক্ষার প্রতি উৎসাহ সৃষ্টি করবে, যা ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির উন্নয়নে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।