একই বিভাগের শিক্ষক দম্পতি, একজন পরীক্ষা কমিটির সভাপতি, অপরজন সদস্য—মার্ক টেম্পারিংয়ের অভিযোগ
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) পরিসংখ্যান বিভাগের এক শিক্ষক দম্পতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার নম্বর পরিবর্তন (মার্ক টেম্পারিং) এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা হলেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. ইফতেখার পারভেজ এবং তাঁর স্ত্রী ও একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মিম্মা তাবাসসুম। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
অনুসন্ধানে প্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট বিভাগের একাধিক পরীক্ষার ফলাফল, চূড়ান্ত রেজাল্ট শিট ও অভ্যন্তরীণ নথিপত্র নিয়ে বিশ্লেষণে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় নানান অসংগতি ও নম্বর জালিয়াতির সত্যতা মিলেছে।
কারিকুলাম উপেক্ষা: ১০০ নম্বরের ভাইভা ৮৫-এর স্কেলে মূল্যায়ন!
নথিপত্র ও নম্বরপত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক নীতিমালা ও বিভাগীয় কারিকুলাম অনুযায়ী সেমিস্টারভিত্তিক ভাইভা পরীক্ষার পূর্ণমান ১০০ নম্বর নির্ধারিত রয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো লিখিত নির্দেশনা বা আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই ওই শিক্ষক দম্পতির একক সিদ্ধান্তে ১০০ নম্বরের মূল্যায়ন কাঠামোকে সম্পূর্ণ অননুমোদিতভাবে ৮৫ নম্বরের স্কেলে নামিয়ে আনা হয়। এতে করে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীরা তাদের প্রাপ্য নম্বর থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের তৃতীয় বর্ষ প্রথম টার্মের (ইয়ার-৩, টার্ম-১) সেমিস্টার ভাইভা পরীক্ষা গত ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়। ওই পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ছিলেন সহকারী অধ্যাপক মো. ইফতেখার পারভেজ। তিনি কমিটির অন্য সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করে নিজের প্রভাব খাটিয়ে নির্ধারিত ১০০ নম্বরের পরিবর্তে ৮৫ নম্বরের স্কেলে মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন, যার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বৈধতা মেলেনি।
অনুরূপ ঘটনা ঘটেছে পরের দিন অর্থাৎ ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের চতুর্থ বর্ষ প্রথম টার্মের (ইয়ার-৪, টার্ম-১) ভাইভা পরীক্ষায়। এই কমিটির সভাপতি ছিলেন সহকারী অধ্যাপক মিম্মা তাবাসসুম। তিনিও কোনো প্রকার লিখিত অনুমোদন ছাড়াই কমিটির অন্য সদস্যদের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজের একক সিদ্ধান্তে ১০০ নম্বরের ভাইভা পরীক্ষাটি ৮৫ নম্বরের স্কেলে মূল্যায়ন করেন। উভয় পরীক্ষায় বহিঃস্থ (এক্সটার্নাল) সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম জাহাঙ্গীর। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ড. সেলিম জাহাঙ্গীর বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
৫ শিক্ষকের স্বাক্ষর, অথচ রেজাল্ট প্রস্তুত ৪ জনের নম্বরে
অনুসন্ধানে মিম্মা তাবাসসুমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত চতুর্থ বর্ষ প্রথম টার্মের পরীক্ষায় ফলাফল বিপর্যয়ের জালিয়াতির তথ্য মিলেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত কাঠামো অনুযায়ী, ৫ সদস্যের ওই পরীক্ষা বোর্ডে সভাপতি ও বহিঃস্থ সদস্য ছাড়া বাকি তিনজন অভ্যন্তরীণ সদস্য ছিলেন, যার মধ্যে তাঁর স্বামী মো. ইফতেখার পারভেজও যুক্ত ছিলেন।
ভাইভা পরীক্ষার নিয়ম অনুযায়ী, বোর্ডে উপস্থিত প্রত্যেক পরীক্ষক পৃথকভাবে নম্বর প্রদান করেন এবং পরবর্তীতে পাঁচজন পরীক্ষকের প্রদত্ত নম্বরের গড় হিসাব করে চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করার কথা। কিন্তু নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, পরীক্ষা কমিটির সভাপতি মিম্মা তাবাসসুম ভাইভা বোর্ডে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও এক শিক্ষকের প্রদত্ত নম্বর রহস্যজনকভাবে গড় নির্ধারণে অন্তর্ভুক্ত করেননি। তিনি উক্ত শিক্ষকের মার্ক বাদ দিয়ে বাকি সদস্যদের মার্ক নিয়ে চূড়ান্ত ফলাফল প্রস্তুত ও প্রকাশ করেন, যা মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক কাঠামোর পরিপন্থি। অথচ চূড়ান্ত রেজাল্ট শিটে বোর্ডে উপস্থিত পাঁচজন শিক্ষকেরই স্বাক্ষর রয়েছে। পাঁচজনের স্বাক্ষর থাকা সত্ত্বেও কেন চারজনের নম্বর গড় করে রেজাল্ট তৈরি করা হলো, তা নিয়ে খোদ বিভাগের ভেতরেই প্রশ্ন ও বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
পছন্দের শিক্ষার্থীকে ‘এ প্লাস' দিতে নম্বর কাটাছেঁড়া
সহকারী অধ্যাপক মো. ইফতেখার পারভেজের সভাপতিত্বে সম্পন্ন হওয়া ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের তৃতীয় বর্ষ প্রথম টার্ম (ইয়ার-৩, টার্ম-১) এর ভাইভা খাতার মূল নম্বরপত্র পর্যালোচনা করে একাধিক শিক্ষার্থীর নম্বর কাটাছেঁড়ার সুস্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে। অভিযোগ রয়েছে, পছন্দের শিক্ষার্থীদের ‘এ প্লাস' পাইয়ে দিতেই সংরক্ষিত মার্কশিটে এই পরিবর্তন করা হয়েছে।
এদের মধ্যে প্রথম শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে ভাইভা বোর্ডে উপস্থিত চারজন শিক্ষকের মধ্যে তিনজন ওই শিক্ষার্থীকে যথাক্রমে ৮০, ৭৫ ও ৮০ নম্বর দেন। কিন্তু পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান মো. ইফতেখার পারভেজ নিজে দেন ৭৩ নম্বর। এই চার শিক্ষকের নম্বর গড় করলে দাঁড়ায় ৭৭, যা ‘এ প্লাস' (৮০ নম্বর) পাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত ছিল না। অভিযোগ উঠেছে, চূড়ান্ত গড় করার সময় কমিটির চেয়ারম্যান তার নিজের দেওয়া ৭৩ নম্বরটি কেটে ১১ নম্বর বাড়িয়ে ৮৪ লিখে দেন। এর ফলে ওই শিক্ষার্থীর চূড়ান্ত গড় নম্বর দাঁড়ায় ৭৯.৭৫, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী রাউন্ডিং করে ৮০ (এ প্লাস) হিসেবে চূড়ান্ত ফলাফল শিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
অনুরূপভাবে একই বোর্ডের দ্বিতীয় আরেকজন শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রেও ভাইভা বোর্ডের চার শিক্ষকের মধ্যে তিনজন যথাক্রমে ৮১, ৮৫ ও ৮০ নম্বর দিলেও মো. ইফতেখার পারভেজ দেন ৭২ নম্বর। এতে শিক্ষার্থীর গড় নম্বর দাঁড়ায় ৭৯.৫; যা নিয়ম অনুযায়ী ৮০ এর সমতুল্য নয়। ফলাফল চূড়ান্ত করার সময় গড় মেলাতে অভিযুক্ত শিক্ষক নিজের দেওয়া ৭২ নম্বরটি কেটে ৭৩ করেন। এতে গড় নম্বর হয় ৭৯.৭৫, যা রাউন্ডিং করে ৮০ হিসেবে ওই শিক্ষার্থীকেও রেজাল্ট শিটে ‘এ প্লাস’ প্রদান করা হয়।
পারিবারিক সিন্ডিকেট ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব
বিভাগের একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই শিক্ষক দম্পতি একই অ্যাকাডেমিক কমিটি বা পরীক্ষা কমিটিতে থাকার কারণে দীর্ঘদিন ধরে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, ইয়ার-৩ টার্ম-১ এবং ইয়ার-৪ টার্ম-১ উভয় পরীক্ষা কমিটির একটিতে এই দম্পতির একজন চেয়ারম্যান থাকলে অন্যজন ছিলেন সদস্য। ফলে পরীক্ষা কমিটিতে এই দম্পতির বাইরে নিজেদের মতাদর্শের আরও একজন শিক্ষক যুক্ত থাকলেই তারা অনায়াসে মেজরিটি বা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে যেতেন। ফলে অন্য সদস্যদের কোনো যৌক্তিক মতামত বা আপত্তি থাকলেও তা সংখ্যাধিক্যের জোরে নিজেদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত করা হতো। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই কমিটি সিন্ডিকেট ব্যবস্থার কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
নম্বর পরিবর্তনের বিষয়টি স্বীকার করলেও এতে কোনো অনিয়ম হয়নি বলে দাবি করেছেন সহকারী অধ্যাপক মো. ইফতেখার পারভেজ। তিনি বলেন, ‘অনেক সময় ভাইভার সময় আমাদের নম্বর কাটাছেঁড়া হয়, কিন্তু যেটা ফাইনাল রেজাল্ট শিট সেটাতে কোনো কাটাছেঁড়া হওয়ার সুযোগ নাই। যদি সেই ফাইনাল রেজাল্ট শিটে অন্যান্য সদস্যবৃন্দ স্বাক্ষর করার পরে এই কাটাছেঁড়া করা হয়, তাহলে প্রশ্ন তোলার সুযোগ ছিলো। আমার যদি অসৎ কোনো উদ্দেশ্য থাকতো তাহলে তো আমি আমার নিজের রেজাল্ট শিটটা একদম নতুন করে প্রিন্ট করে নিয়ে লিখে দিতে পারতাম।’
১০০ নম্বরের ভাইভা ৮৫-এর স্কেলে মূল্যায়নের বিষয়ে তৃতীয় বর্ষ প্রথম টার্মের পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান মো. ইফতেখার পারভেজ বলেন, ‘এটা তো কোনোদিন সম্ভব না। এটা শুধু আমার কমিটি না, এর আগে ১৪ তারিখ যে ভাইভা পরীক্ষা হয়, সে কমিটিতে আমিও মেম্বার ছিলাম। তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল আমরা এই ইন্টার্ভেলে নম্বর দেবো, যেটা পরবর্তীতে আমি যে কমিটিতে চেয়ারম্যান ছিলাম সেখানে অনুসরণ করেছি।’
একই বিষয়ে চতুর্থ বর্ষ প্রথম টার্মের পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান মিম্মা তাবাসসুম বলেন, ‘অনেক স্টুডেন্ট দেখা যায় ভাইভাতে একদমই কিছু পারে না। কিন্তু আমরা তো তাকে জিরো দিতে পারি না, সে হিসেবে সর্বনিম্ন একটা মার্কস আমরা ধরে মার্কিং করি। তখন প্রথম ২০২২-২৩ সেশনের যে ভাইভা হয় সেখানে এক্সটার্নাল মেম্বারসহ অন্যরা একটা ক্রাইটেরিয়া সেট করেন যে, আমরা এই রেঞ্জে নাম্বার দিবো। সে কমিটিতে আমি মেম্বারও ছিলাম না। পরে আমার কমিটিতে এটা অনুসরণ করা হয় যাতে একটা সামঞ্জস্যতা থাকে। এক্সটার্নাল শিক্ষকের মতামত নিয়েই এটা করা হয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মার্ক ডিফারেন্স যেন বেশি না হয় সেটার জন্য একটা সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন ধরে মার্কিংটা করা হয়ে থাকে, এটি তাদের সুবিধার কথা চিন্তা করে।’
পাঁচজনের স্বাক্ষর থাকা সত্ত্বেও কেন চারজনের নম্বর গড় করে রেজাল্ট তৈরি করা হলো তা জানতে চাইলে সহকারী অধ্যাপক মিম্মা তাবাসসুম বলেন, ‘এরকম কিছু হয়নি। যদি কোনো শিক্ষকের মার্কস না নিয়েই করতাম, তাহলে তিনি ফাইনাল রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর করেছেন কেন?’
এই বিষয়ে পরীক্ষা কমিটির ঐ শিক্ষককে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘বেশিরভাগ সময় ভাইভাতে ফাইনাল রেজাল্টের ব্ল্যাংক শিটে সিগনেচার নিয়ে নেওয়া হয়। কারণ দেখা যায় এক্সটার্নাল যিনি থাকেন উনি চলে যান। আবার আমরা যারা পরীক্ষা কমিটির মেম্বার থাকি তারাও ব্যস্ত থাকি। ফলে আগে থেকেই সিগনেচার করে দেই। আর কোনো সময় পরে সিগনেচার না দিলেও ঐভাবে আসলে যাচাই করা হয় না। কারণ একজনের রেজাল্ট বিবেচনায় না নিয়েই রেজাল্ট করা হবে এটা তো কেউ চিন্তাও করে না।’
এই বিষয়ে পরীক্ষা কমিটির আরেক সদস্য বলেন, ‘এক্সটার্নাল মেম্বার যিনি থাকেন, উনার সিগনেচার আগে নিয়ে নেওয়া হয়। আর আমাদের মধ্যে তখনই দিয়ে দেই অথবা পরে দেই, যার যেটা সুবিধা হয়।’
বিভাগের আরেক শিক্ষক জানান, ‘বেশিরভাগ সময়ই দেখা যায় আমরা আগেই চূড়ান্ত রেজাল্ট শিটে সিগনেচার দিয়ে দিই, তবে অনেক সময় পরেও নেওয়া হয়। এটা পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান কে তার উপর ডিপেন্ডস করে।’
সিলেবাস বহির্ভূত ট্যুর ও অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ
মার্ক টেম্পারিংয়ের পাশাপাশি মো. ইফতেখার পারভেজের বিরুদ্ধে সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত না থাকা সত্ত্বেও শিক্ষা সফর (ফিল্ড ট্রিপ) দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় তহবিল থেকে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের দ্বিতীয় বর্ষ দ্বিতীয় টার্মের (ইয়ার-২, টার্ম-২) কোনো ফিল্ড ট্রিপের বিধান বিভাগের অনুমোদিত সিলেবাসে ছিল না। কিন্তু তৎকালীন চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতির সুযোগে ভুল সিলেবাস সংযুক্ত করে গত ২২ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি একটি ট্যুরের অনুমতি নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ৫ মার্চ বিভাগের অ্যাকাডেমিক কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, সিলেবাসে না থাকায় এই ট্যুর বাবদ কোনো বিল করা যাবে না।
কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত অমান্য করে গত ১০ মার্চ সহকারী অধ্যাপক মো. ইফতেখার পারভেজ ১৩ হাজার ৭৪৯ টাকার একটি বিল দাখিল করেন, যা ১৬ মার্চ অনুমোদন পায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রশাসন থেকে আমাকে আর্থিক সুবিধাসহ ছুটি মঞ্জুর করে চিঠি দিয়েছে। তাই বিল সাবমিট করেছি। এখন তারা কোন প্রেক্ষিতে দিয়েছে সেটি তারা ভালো বলতে পারবে।’
চিঠির ইস্যুর বিষয়ে জানতে চাইলে চিঠিতে স্বাক্ষরকারী ডেপুটি রেজিস্ট্রার (প্রটোকল) মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া বলেন, ‘প্রশাসন শাখা থেকে যেভাবে চিঠি দেওয়া হয় সে অনুযায়ী আমরা ফাইল নোট করি। আর্থিক সুবিধা দেওয়া হবে কি না সেটি তাঁরাই উল্লেখ করে আমাদের পাঠায়।’
এদিকে চিঠির সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত না থাকা সত্ত্বেও কেন আর্থিক সুবিধাসহ চিঠি ইস্যু করা হয়েছে সে বিষয়ে প্রশাসন শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার ড. মো. আলমগীর সরকারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি বলার মতো কেউ না।' এসময় তিনি এই বিষয়ে বলার মতো অবস্থানে নাই বলেও জানান। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রশাসন শাখার এক কর্মকর্তা জানান, ‘ডিপার্টমেন্ট থেকে যেভাবে বলা হয় সে অনুযায়ী আমরা চিঠি ইস্যু করি।’
তবে এই বিষয়ে তৎকালীন বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক মামুন মিয়া বলেন, ‘ঐ সময় ট্যুরে কারা বিল করবে সে বিষয়ে অ্যাকাডেমিক কমিটির মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয়। সে সিদ্ধান্তে উপস্থিত শিক্ষকবৃন্দ সাক্ষর করেছেন এবং আপনি যে শিক্ষকের কথা বলেছেন উনিও স্বাক্ষর করেন। এটা আমাদের ইন্টার্নাল সিদ্ধান্ত ছিলো। যেহেতু ঐ টার্মে সিলেবাসে ফিল্ড ট্যুর ছিলো না ফলে বিল করার কোনো বৈধ অনুমতিও ছিলো না।’
এসব সার্বিক অনিয়মের তদন্তে গত ১১ মে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মহিনুজ্জামানকে আহ্বায়ক এবং ডেপুটি রেজিস্ট্রার ড. মুহাম্মদ আলমগীর সরকারকে সদস্যসচিব করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রশাসন। তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মহিনুজ্জামান বলেন, ‘শীঘ্রই সভা আহ্বান করে এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে। পরবর্তীতে তদন্ত রিপোর্টের আলোকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে বলেন, ‘এই বিষয়টি আমি জেনেছি এবং জানার পরই কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’