০২ জুলাই ২০২৬, ১২:২৭

৪০ নতুন প্রভাষক পেল রুয়েট, বাড়বে শিক্ষা ও গবেষণার গতি

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়  © সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট কাটিয়ে শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নের পথে এগোচ্ছে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬টি বিভাগে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া ৪০ জন নতুন প্রভাষক আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এই নিয়োগে একাডেমিক কার্যক্রমে গতি আসার পাশাপাশি গবেষণা, উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে।

কঠোর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাতালিকা অনুযায়ী নির্বাচিত এই শিক্ষকরা গত মঙ্গলবার নিয়োগপত্র গ্রহণ করেন এবং বুধবার (১ জুলাই) নিজ নিজ বিভাগে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত উন্নত করা এবং গবেষণার পরিধি সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই এই নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। নতুন এই শিক্ষকদের যোগদানে পাঠদান, উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক মানের একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত হবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিয়োগপ্রাপ্ত ৪০ জন শিক্ষকের মধ্যে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই), মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (এমই) এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইপিই) বিভাগে ৪ জন করে শিক্ষক যোগ দিয়েছেন। এ ছাড়া ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই), ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং (ইসিই), কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (সিইউচই) এবং আর্কিটেকচার বিভাগে ৩ জন করে শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছেন। ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (এমএসই), ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইটিই), ইংরেজি এবং বিল্ডিং ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন ম্যানেজমেন্ট (বিইসিএম) বিভাগে ২ জন করে নতুন প্রভাষক যোগ দিয়েছেন।

অন্যদিকে গণিত, সমাজবিজ্ঞান, সিরামিক অ্যান্ড মেটালার্জিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএমই) এবং আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিং (ইউআরপি) বিভাগে ১ জন করে শিক্ষক যোগদান করেছেন।

নতুন এই নিয়োগের ফলে রুয়েটের দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট অনেকটাই নিরসন হবে বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই নিয়োগের ইতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সংশ্লিষ্টরা জানান, এর ফলে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের গুণগত মান বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত হবে।

পাশাপাশি দক্ষ শিক্ষকসংখ্যা বাড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক গবেষণা কার্যক্রম জোরদার হবে, যা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাংকিংয়ে রুয়েটের অবস্থান উন্নত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। এ ছাড়া শক্তিশালী শিক্ষক প্যানেল ভবিষ্যতে গবেষণা অনুদান, নতুন প্রকল্প গ্রহণ এবং বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, নবনিযুক্ত শিক্ষকরা তাঁদের মেধা ও শ্রম দিয়ে রুয়েটকে গবেষণাধর্মী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবেন।