৩০ জুন ২০২৬, ২০:১৩

টানা দুই বিসিএসে ক্যাডার আল-আমিন বললেন, ‘মুখস্থ নয়, কনসেপ্ট পরিষ্কার রাখা জরুরি’

মো. আল-আমিন ফারাবি  © টিডিসি ফটো

অদম্য পরিশ্রম, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং লক্ষ্য অর্জনের দৃঢ় প্রত্যয় এই তিনের সমন্বয়ে টানা দুই বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষায় ক্যাডার হওয়ার বিরল সাফল্য অর্জন করেছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শিক্ষার্থী মো. আল-আমিন ফারাবি। ৪৫তম বিসিএসে ফিশারিজ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর এবার ৪৭তম বিসিএসেও পরিবার পরিকল্পনা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি।

আল-আমিন ফারাবি যবিপ্রবির ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসাইন্স (এফএমবি) বিভাগের ২০১৬–১৭ শিক্ষাবর্ষের (নবম ব্যাচ) শিক্ষার্থী। তার এই ধারাবাহিক সাফল্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভাসছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সহপাঠীরা।

নিজের প্রস্তুতির গল্প তুলে ধরে আল-আমিন জানান, বিসিএসের জন্য তার পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের একেবারে শুরু থেকেই। তিনি বলেন, প্রথম বর্ষ থেকেই বিভিন্ন বই, পত্রিকা ও তথ্যসূত্র থেকে বিসিএস সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করেছি। কোন ক্যাডার আমার জন্য উপযুক্ত, কোথায় কাজের সুযোগ ও নিরাপত্তা বেশি এবং আমার আগ্রহ কোন দিকে এসব বিষয় শুরুতেই নির্ধারণ করার চেষ্টা করি। এরপর অনার্সের দ্বিতীয় বর্ষ থেকে নিয়মিত পড়াশোনা শুরু করি এবং বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রস্তুতি এগিয়ে নিই।

আরও পড়ুন: চারবার ভাইভা, অবশেষে স্বপ্নপূরণ; ৪৭তম বিসিএসে তথ্য ক্যাডারে শাহরিয়ার

টানা দুই বিসিএসে ক্যাডার হওয়ার অনুভূতি জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ৪৫তম বিসিএসে প্রথমবার ক্যাডার হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার আনন্দ ছিল অন্যরকম। এবারও ক্যাডার পেয়েছি, তবে প্রথমবারের মতো এতটা উচ্ছ্বাস কাজ করেনি। আমার প্রথম পছন্দ ছিল প্রশাসন ক্যাডার এবং দ্বিতীয় পছন্দ ছিল কাস্টমস ক্যাডার। যদিও কাঙ্ক্ষিত ক্যাডার পাইনি, তবুও মহান আল্লাহর কাছে আমি অশেষ কৃতজ্ঞ।

নতুন ক্যাডার প্রাপ্তি নিয়ে আল-আমিন আরও বলেন, আমি শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। পরিবার পরিকল্পনা ক্যাডারে সে সুযোগ রয়েছে। তবে ফিশারিজ ক্যাডার আমার নিজের বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় সেখানে কাজ করার ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা থাকবে। সামনে আরও দুই-তিনটি বিসিএসে অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সেগুলোতেও সর্বোচ্চ চেষ্টা করে আরও ভালো ফল অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।

নিজের সাফল্যের পেছনে বিশ্বাস ও অধ্যবসায়কেই সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের জীবনে পেছনে ফিরে তাকানোর সুযোগ নেই। মহান আল্লাহ আমাদের জন্য যা নির্ধারণ করে রাখেন, তা অবশ্যই কল্যাণের জন্য। আল্লাহর প্রতি অশেষ শুকরিয়া, তিনি আমাকে ধারাবাহিকভাবে এমন অর্জনের সুযোগ করে দিয়েছেন।

বিসিএস প্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আল-আমিনের পরামর্শ, সফলতার কোনো শর্টকাট নেই। তিনি বলেন, যে বিষয়ই পড়ি না কেন, সেটি গভীরভাবে বুঝে পড়তে হবে। মুখস্থ নয়, কনসেপ্ট পরিষ্কার রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নিজের স্বপ্ন পূরণের পথ নিজেকেই তৈরি করতে হয়। তাই নিরলস পরিশ্রম, ধৈর্য এবং আত্মবিশ্বাস ধরে রেখে লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।