রাতে চলাচলে প্রক্টর অফিসের নীতিমালা ফেসবুকে পোস্ট, সমালোচনায় ডিলিট
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) রাতে শিক্ষার্থীদের চলাচলে বিধিনিষেধসংক্রান্ত একটি নীতিমালা প্রক্টর অফিসের ফেসবুক পেজে প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের তীব্র সমালোচনার মুখে সেটি মুছে ফেলা হয়েছে। তবে প্রক্টরিয়াল বডির দাবি, এটি বর্তমান প্রশাসনের নতুন সিদ্ধান্ত নয়, আগের প্রশাসনের সিন্ডিকেটে অনুমোদিত নীতিমালার ভিত্তিতেই পোস্টটি প্রকাশ করা হয়েছিল।
বুধবার (২৬ জুন) শাবিপ্রবি প্রক্টর অফিসের ফেসবুক পেজে শিক্ষার্থীদের রাতে চলাফেরা ও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত একটি নীতিমালার নোটিশ পোস্ট করা হয়। সেখানে রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে সবাইকে হলের বাইরে সব কাজ শেষ করতে এবং রাত ১০টার পর ছাত্রী হলের বাইরে অবস্থান করতে নিষেধ করা হয়। একই সঙ্গে রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের বেডমিনটন ও ইনডোর গেমস শেষ করতে আদেশ দেওয়া হয়।
এই পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসার পরপরই সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়। শিক্ষার্থীরা এটিকে ‘মুক্তচিন্তা ও স্বাধীন চলাচলের ওপর হস্তক্ষেপ’ আখ্যা দিয়ে শাবিপ্রবির অভ্যন্তরীণ একটি ফেসবুক গ্রুপে সমালোচনার ঝড় তোলেন। শিক্ষার্থীদের এমন জোরালো প্রতিবাদের মুখে এক পর্যায়ে প্রক্টর অফিস তাদের ফেসবুক পেজ থেকে বিতর্কিত সেই পোস্ট ডিলিট করে দেয়।
আরও পড়ুন: পাঠ্যবইয়ের অনুশীলন অংশ পূরণ করান না শিক্ষকরা, বানান করেও পড়তে পারছে না অনেক শিক্ষার্থী
এ বিষয়ে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী রিয়াজ হোসেন রিমন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনযাপন, মুক্ত বিচরণ ও মানসিক বিকাশকে সংকুচিত করে একের পর এক অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে খেলাধুলা ও আড্ডা শেষ করার নির্দেশনা শুধু একটি সময়সীমা নয়, এটি শিক্ষার্থীদের স্বাধীনতা ও স্বাভাবিক ক্যাম্পাস সংস্কৃতির ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ।’
তিনি আরও বলেন, ‘দমন-পীড়নমূলক সিদ্ধান্ত কখনোই শিক্ষার্থীরা মেনে নেয়নি, ভবিষ্যতেও নেবে না। প্রশাসনের মনে রাখা উচিত ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বৈরাচারী আচরণের পরিণতি কখনো শুভ হয় না। অতীতের প্রশাসনের পরিণতি থেকেও শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। আমরা আশা করি, প্রশাসন শিক্ষার্থীবান্ধব ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে এবং ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে পূর্বের এই অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে।’
শিক্ষার্থীদের এমন পোস্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মোহাম্মদ ইমরান হোসেন ব্যাখ্যা দিয়ে লেখেন, ‘উল্লেখিত সময়সূচিটি আজ থেকে প্রায় বছরখানেক আগে, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ২৩৭তম সভায় পাস হয়েছিল। আমাদের বর্তমান উপাচার্য মহোদয় শিক্ষার্থীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয়-এমন কোনো নিয়ম নতুন করে আরোপ করেননি। প্রক্টর অফিসের পেজের ওই পোস্টটি মূলত পূর্ববর্তী প্রশাসনের নেওয়া সিদ্ধান্তের আলোকেই করা হয়েছিল।’