বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দ্বিতীয় মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা মূল্যায়ন সংস্থা টাইমস হায়ার এডুকেশন (THE) প্রকাশিত ‘সাসটেইনেবিলিটি ইমপ্যাক্ট র্যাঙ্কিং ২০২৬’-এ বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি)। একই সঙ্গে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যৌথভাবে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
পূর্বে ‘দ্য ইমপ্যাক্ট র্যাংকিং’ নামে পরিচিত এ মূল্যায়ন ২০২৬ সাল থেকে ‘সাসটেইনেবিলিটি ইমপ্যাক্ট র্যাংকিং’ নামে প্রকাশ করা হচ্ছে। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবদান, কার্যক্রম, গবেষণা ও সামাজিক প্রভাবের ভিত্তিতে এ র্যাঙ্কিং নির্ধারণ করা হয়।
এবারের র্যাংকিংয়ে বিশ্বের ১১৬টি দেশ ও অঞ্চলের ১ হাজার ৬৪৬টি বিশ্ববিদ্যালয় অংশগ্রহণ করে। বৈশ্বিক তালিকায় শীর্ষস্থান অর্জন করেছে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টার।
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বিশ্বের ৮৭তম স্থান অর্জন করেছে। এছাড়া ৩০১-৪০০ ক্যাটাগরিতে রয়েছে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ এআইইউবি)। ৪০১-৬০০ ক্যাটাগরিতে স্থান পেয়েছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০১-৮০০ ক্যাটাগরিতে রয়েছে আইইউবিএটি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। ৮০১-১০০০ ক্যাটাগরিতে স্থান পেয়েছে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)। অন্যদিকে ১০০১-১৫০০ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি), শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ও বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সামাজিক দায়বদ্ধতা, গবেষণা, উদ্ভাবন, পরিবেশগত সচেতনতা এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর অবদানের ভিত্তিতে এ র্যাঙ্কিং মূল্যায়ন করা হয়। জাতিসংঘ ঘোষিত ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে দারিদ্র্য বিমোচন, ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব, সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ, মানসম্মত শিক্ষা, লিঙ্গ সমতা, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন, সাশ্রয়ী ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, শোভন কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্প ও উদ্ভাবন, বৈষম্য হ্রাস, টেকসই নগরায়ণ, দায়িত্বশীল ভোগ ও উৎপাদন, জলবায়ু কার্যক্রম, জলজ ও স্থলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, শান্তি-ন্যায়বিচার এবং বৈশ্বিক অংশীদারিত্বসহ বিভিন্ন সূচকের ওপর মূল্যায়ন সম্পন্ন হয়।
মাভাবিপ্রবি এ বছর ‘সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ’, ‘মানসম্মত শিক্ষা’, ‘শিল্প, উদ্ভাবন ও অবকাঠামো’ এবং ‘টেকসই নগর ও জনপদ’—এই চারটি এসডিজি সূচকে তথ্য উপস্থাপন করে র্যাংকিংয়ে অংশগ্রহণ করে।
র্যাংকিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান সম্পর্কে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মানসম্মত শিক্ষা (Quality Education) সূচকে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত সন্তোষজনক। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। গবেষণার মান এবং গবেষণা নিবন্ধের উদ্ধৃতির (Citation) দিক থেকেও বিশ্ববিদ্যালয়টি দক্ষিণ এশিয়ায় উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছে। যেসব ক্ষেত্রে আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে, সেগুলো নিয়ে কাজ করে ভবিষ্যতে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করার লক্ষ্যে আমরা এগিয়ে যেতে চাই।’
র্যাঙ্কিং কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মতিউর রহমান বলেন, ‘এ অর্জন বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আন্তরিক সহযোগিতা এবং নিরলস পরিশ্রমের কারণেই এ সাফল্য এসেছে। ভবিষ্যতে আরও ভালো অবস্থান অর্জনের লক্ষ্যে আমরা কাজ চালিয়ে যাব।’
এ বিষয়ে র্যাঙ্কিং কমিটির সেক্রেটারি এবং সাইবার সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. জিয়াউর রহমান বলেন, ‘এ অর্জন নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার। এ সাফল্যের জন্য আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এবং বিশেষভাবে কোয়ালিটি রিভিউ ও র্যাংকিং কমিটিকে ধন্যবাদ জানাই। বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচালিত এসডিজি-সংশ্লিষ্ট গবেষণা, কার্যক্রম ও বিভিন্ন আয়োজন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী আরও কার্যকরভাবে উপস্থাপন করা গেলে ভবিষ্যতে ইমপ্যাক্ট র্যাংকিংয়ে আমাদের অবস্থান আরও উন্নত হবে। তবে আমাদের লক্ষ্য শুধু র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে যাওয়া নয়; বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক গুণগত মানোন্নয়নে অবদান রাখা। এ লক্ষ্য অর্জনে সব ধরনের বিভাজন ভুলে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।’