নোবিপ্রবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ৭৪ শতাংশই ছাত্রী
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ২০তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষ্যে অনুষদভিত্তিক সর্বোচ্চ ফলাফলধারী শিক্ষার্থীদের ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে। সংশোধিত ও হালনাগাদকৃত চূড়ান্ত তালিকা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এবারের অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে মেধার অসামান্য স্বাক্ষর রেখেছেন নারী শিক্ষার্থীরা। মনোনীত শিক্ষার্থীদের প্রায় ৭৪ শতাংশই ছাত্রী, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক অঙ্গনে নারী শিক্ষার এক নতুন ও অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।
সংশ্লিষ্ট অনুষদ ও গবেষণা সেলের তথ্য অনুযায়ী, ডিনস অ্যাওয়ার্ডের জন্য চূড়ান্তভাবে মনোনীত ২৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ জনই ছাত্রী এবং মাত্র ৬ জন ছাত্র। শতাংশের হিসাবে নারী শিক্ষার্থীর হার ৭৩ দশমিক ৯১ শতাংশ, যেখানে পুরুষ শিক্ষার্থীর হার ২৬ দশমিক ০৯ শতাংশ। অনুষদভিত্তিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি অনুষদের অধিকাংশেই ছাত্রীদের একচেটিয়া সাফল্য রয়েছে। বিশেষ করে বিজ্ঞান অনুষদ এবং কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে মনোনীত সকল শিক্ষার্থীই নারী। বিজ্ঞান অনুষদ থেকে অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ইশরাত জাহান, মনিকা ধর ও সাবরিনা সুলতানা রিচি। অন্যদিকে কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে মনোনীত হয়েছেন ইশরাত জাহান ইভা, সাদিয়া সুলতানা এবং মোসাম্মৎ কামরুন নাহার।
বিজনেস স্টাডিজ অনুষদে ২০১৯-২০ ও ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ছয়জন অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর মধ্যে পাঁচজনই ছাত্রী। তারা হলেন নাফিসা জান্নাতুল মাওয়া, মারিয়া তাবাসসুম, আয়েশা সিদ্দিকা ও ডালিয়া রানী শর্মা। এই অনুষদে ছাত্র হিসেবে মনোনীত হয়েছেন সাদিউল আলম চৌধুরী ও এমরান হোসাইন। শিক্ষা বিজ্ঞান অনুষদে মনোনীত চারজন শিক্ষার্থীর সবাই ছাত্রী; তারা হলেন রাহনুমা নূরাইন, হাফসা আক্তার, তাসফিয়া নওয়ার ইরা ও মুসলিমা আফরোজ শম্পা। প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদে তিনজন মনোনীত শিক্ষার্থীর মধ্যে দুইজন ছাত্রী— নাহিন সুলতানা লিজা ও মনীষা মজুমদার এবং একজন ছাত্র নিলয় দাস।
অন্যান্য অনুষদের তুলনায় কেবল জীববিজ্ঞান অনুষদেই ছাত্রদের উপস্থিতি কিছুটা বেশি লক্ষ্য করা গেছে। এই অনুষদের তিনজন মনোনীত শিক্ষার্থীর মধ্যে সুকন্যা সাহা নামের একজন ছাত্রী এবং মো. রকিবুল হাসান ও ফজলে রাব্বী শুভ নামের দুইজন ছাত্র রয়েছেন। এছাড়া আইন অনুষদ থেকে একমাত্র মনোনীত শিক্ষার্থী হিসেবে স্থান পেয়েছেন ছাত্র মো. মুবদি ইসলাম।
এর আগে, গত ১৭ জুন প্রকাশিত প্রাথমিক তালিকায় ২২ জন মনোনীত শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৪ জন ছাত্রী এবং ৮ জন ছাত্র ছিলেন। তবে নীতিমালাজনিত কিছু জটিলতার কারণে ১৮ জুন বিভিন্ন ডিন অফিস তালিকাটি পুনর্বিবেচনা ও সংশোধন করে। সংশোধিত এই তালিকায় ছাত্র হৃদয় বণিক ও আরাফাত উল্যাহ আরমান এবং ছাত্রী নাদিয়া জাহানের নাম বাদ পড়ে। একই সাথে নতুন করে চারজন শিক্ষার্থীকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাদের সবাই নারী শিক্ষার্থী। নতুন অন্তর্ভুক্ত হওয়া এই মেধাবী ছাত্রীরা হলেন মনীষা মজুমদার, সাবরিনা সুলতানা রিচি, তাসফিয়া নওয়ার ইরা এবং মুসলিমা আফরোজ শম্পা। এর ফলে চূড়ান্ত তালিকায় নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৪ থেকে বেড়ে ১৭ জনে উন্নীত হয় এবং সাফল্যের হার প্রায় ৭৪ শতাংশে পৌঁছায়, যা নোবিপ্রবির অ্যাকাডেমিক ক্ষেত্রে নারীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ ও অসামান্য সাফল্যের এক উজ্জ্বল স্মারক।