কিউএস র্যাঙ্কিংয়ে ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছে কুয়েট
আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিং সংস্থা কিউএস (Quacquarelli Symonds) আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিংস ২০২৭ প্রকাশ করেছে। এ তালিকায় খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) ১৪০১+ ব্যান্ডে অবস্থান করেছে। র্যাঙ্কিং এ স্থান পাওয়া দেশের ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান ১১তম। তবে র্যাঙ্কিং বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কুয়েটের অবস্থান গত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে পিছিয়েছে।
কুয়েট ২০২৪ সালে কিউএস র্যাঙ্কিংয়ে ১২০১-১৪০০ ব্যান্ডে স্থান লাভ করে। ওই সময় দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান ছিল অষ্টম। পরের বছর ২০২৫ সালেও কুয়েট একই ব্যান্ডে অবস্থান ধরে রাখলেও দেশের অবস্থান নেমে যায় নবম স্থানে। এরপর ২০২৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টির আন্তর্জাতিক অবস্থান আরও অবনতি হয়ে ১৪০১+ ব্যান্ডে চলে যায় এবং দেশের মধ্যে অবস্থান হয় ১৩তম। সর্বশেষ ২০২৭ সালের র্যাঙ্কিংয়েও কুয়েট ১৪০১+ ব্যান্ডেই রয়ে গেছে। ফলে গত চার বছরের পরিসংখ্যান বলছে, আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে কুয়েটের অবস্থান উন্নতির পরিবর্তে ক্রমাগত নিম্নমুখী হয়েছে।
বিশ্বের ১০৬টি দেশ ও অঞ্চলের ১ হাজার ৫০০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে প্রকাশিত এবারের র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঝে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ৭১১-৭২০ ব্যান্ডে অবস্থান নিয়ে দেশে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে।
একই সময়ে ২০২৪ সাল থেকে বুয়েট আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান ক্রমাগত উন্নতি করেছে। এ তালিকায় আরও রয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলোজিসহ (আইইউটি) দেশের অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
কিউএস র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান নির্ধারণ করা হয় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সূচকের ভিত্তিতে। এর মধ্যে রয়েছে একাডেমিক সুনাম, নিয়োগদাতাদের কাছে সুনাম, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত, গবেষণাপত্রের উদ্ধৃতি, আন্তর্জাতিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর উপস্থিতি এবং টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রম। এসব সূচকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করে প্রতিবছর এই র্যাঙ্কিং প্রকাশ করা হয়।
উচ্চশিক্ষা, গবেষণার মান, আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং কর্মসংস্থান সক্ষমতার মতো গুরুত্বপূর্ণ সূচকে উন্নতি করতে না পারলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা প্রকাশনা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং বৈশ্বিক উপস্থিতি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করছেন সংশ্লিষ্টরা।