টিন সরালেন শিক্ষার্থীরা, বাঁশের বেড়া দিল প্রশাসন
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) প্রধান ফটকের একপাশে দীর্ঘদিন ধরে থাকা টিনের বেড়া সম্প্রতি একদল শিক্ষার্থী অপসারণ করলেও তার স্থানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুনরায় বাঁশের বেড়া স্থাপন করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে অসন্তোষ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) ডেইলি ক্যাম্পাসে ‘ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে টিনের বেড়া’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদে প্রধান ফটকের অসমাপ্ত অবস্থা, সৌন্দর্যবর্ধন কাজের স্থবিরতা, জলাবদ্ধতা এবং দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা টিনের অস্থায়ী বেড়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
সংবাদ প্রকাশের পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রধান ফটকে জড়ো হয়। পরে তারা নিজ উদ্যো্গ ফটকের এক পাশে দীর্ঘদিন ধরে থাকা টিনের বেড়া খুলে ফেলেন। এ সময় উপস্থিত শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা ওই বেড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য নষ্ট করার পাশাপাশি প্রধান প্রবেশদ্বারের ভাবমূর্তিকেও ক্ষুণ্ন করছিল।
এদিকে টিনের বেড়া অপসারণের কিছু সময়ের মধ্যেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই স্থানে বাঁশের বেড়া স্থাপন করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, টিনের পরিবর্তে বাঁশের বেড়া স্থাপন আদৌ কোনো স্থায়ী সমাধান কি না।
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শামসুল আরেফিন বলেন, ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যের অন্যতম প্রধান অংশ হলো এর প্রধান ফটক। সেই ফটকের একপাশে দীর্ঘদিন ধরে টিনের বেড়া পড়ে থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছিল। আমরা ভেবেছিলাম টিনের বেড়া সরানোর মাধ্যমে অন্তত প্রবেশমুখ কিছুটা উন্মুক্ত হবে। কিন্তু টিনের জায়গায় বাঁশের বেড়া দিয়ে আবারও সেটি ঘিরে দেওয়া হয়েছে। এতে সমস্যার সমাধান হয়নি, বরং নতুনভাবে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।’
ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরাফাত আলম বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সমস্যাটি নতুন নয়। প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই মেইন গেটের কাজ চলতে দেখছি। কিন্তু কবে শেষ হবে, সেটি কেউ জানে না। টিনের বেড়া থাকুক বা বাঁশের বেড়া, এতে মূল সমস্যার সমাধান হবে না। আমরা চাই দ্রুত প্রধান ফটকের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হোক।’
আরও পড়ুন : দেড় বছর ধরে বেতন বন্ধ গোবিপ্রবির খণ্ডকালীন শিক্ষকদের
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. এস. এম. আহসান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই আপাতত বাঁশের বেড়া স্থাপন করা হয়েছে। অনেক সময় ওই পাশ দিয়ে বহিরাগত মোটরসাইকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে। পর্যাপ্ত গার্ড বা আনসার সদস্য না থাকায় সাময়িকভাবে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এটি সর্বোচ্চ এক সপ্তাহ থাকবে। এরই মধ্যে সেখানে স্টেইনলেস স্টিল (এসএস) গেট স্থাপনের জন্য অর্ডার দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, এক সপ্তাহের মধ্যেই গেট স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হবে।’