১০ জুন ২০২৬, ১৩:০৫

একই নাম, ভিন্ন মহাদেশ: 'SUST' নামে রয়েছে পৃথিবীর চার বিশ্ববিদ্যালয়

একই নামে পৃথিবীর চার বিশ্ববিদ্যালয়  © টিডিসি সম্পাদিত

আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার মানচিত্রে "SUST" (সাস্ট) একটি অত্যন্ত পরিচিত এবং মর্যাদাপূর্ণ সংক্ষিপ্ত রূপ। আমাদের দেশে এই নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সিলেটের চিরসবুজ ক্যাম্পাস, আর অগ্রগামী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার আবহ। তবে মজার ব্যাপার হলো, বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে এই একই নামে আরও তিনটি বড় এবং প্রভাবশালী বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। ভৌগোলিক দূরত্ব, ভিন্ন সংস্কৃতি এবং আলাদা একাডেমিক ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও এই চার প্রতিষ্ঠানকে এক সুতোয় বেঁধেছে ইংরেজি এই চার অক্ষরের নামটি।

এই চার 'SUST'-এর মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে চেনা নামটি হলো শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (সাস্ট)। ১৯৯১ সালে সিলেটে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানটি দেশের প্রথম বিশেষায়িত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার ডিজিটালাইজেশন ও তথ্য প্রযুক্তির সমৃদ্ধ গবেষণা চর্চায় এই বিশ্ববিদ্যালয়টি সবসময়ই পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রযুক্তি খাতে দেশ এবং বিদেশে দক্ষ জনবল গড়ার পেছনে এর অবদান অনস্বীকার্য।

জানা যায়, পূর্ব এশিয়ার পরাশক্তি চীনে রয়েছে এই নামের দুটি বিশ্ববিদ্যালয়, যার একটি হলো সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (সাস্ট)। চীনের আধুনিক টেকনোলজি হাব শেনজেন শহরে ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি নতুন হওয়া সত্ত্বেও গবেষণার ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে সমৃদ্ধ। আন্তর্জাতিক মানের ল্যাবরেটরি এবং ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার কারণে এটি বৈশ্বিক র‍্যাংকিংয়ের ওপরের দিকে উঠে এসেছে। অন্যদিকে, চীনের শানসি প্রদেশের প্রাচীন শহর শিয়ানে অবস্থিত 'শানসি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (সাস্ট)।' ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানটি মূলত মেটেরিয়াল সায়েন্স এবং লাইট ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো ভারী ও দরকারি শিল্প প্রযুক্তির গবেষণায় বিশ্বস্ত এক নাম।

আরও পড়ুন : বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ট রাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা

এ ছাড়াও আমাদের তালিকার চতুর্থ এবং আফ্রিকার অন্যতম একটি উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান হলো-সুদান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (সাস্ট)। সুদানের রাজধানী খার্তুমে অবস্থিত এই বিদ্যাপীঠের ইতিহাস বেশ পুরনো, যার গোড়াপত্তন হয়েছিল ১৯৩২ সালে খার্তুম টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট হিসেবে। ১৯৯০ সালে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া এই প্রতিষ্ঠানটি উত্তর আফ্রিকার প্রকৌশল, প্রযুক্তি এবং কৃষি গবেষণার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। নাম এক হলেও নিজস্ব মহিমায় উজ্জ্বল এই চার 'SUST' আজ নিজ নিজ দেশ ছাড়িয়ে বিশ্বমঞ্চে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে।