০৫ জুন ২০২৬, ১৬:৩২

দেড় যুগ পেরিয়ে ১৯ বছরে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়  © টিডিসি সম্পাদিত

ঠিক ১৮ বছর আগে পাবনা শহর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার পূর্বে ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের পাশে শুরু হয় পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা। আজকের দিনে ১৯ বছরে পদার্পণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে ক্যাম্পাসজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ, আনন্দ আর গর্বের আবহ।

২০০৮ সালে যাত্রা শুরু করা বিশ্ববিদ্যালয়টির শুরুটা ছিল খুবই সীমিত পরিসরে। মাত্র ৩টি অনুষদের অধীনে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই), ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই), গণিত এবং ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। 

চারটি বিভাগ নিয়ে চালু হওয়া এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ছিল মাত্র ১৮০ জন, শিক্ষক ১২ জন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী ছিলেন ৫ জন। সেই ছোট পথচলা আজ পরিণত হয়েছে এক সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠানে। বর্তমানে প্রায় ২২০ জন শিক্ষক, ১১৫ জন কর্মকর্তা ও ২০০ জন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটিতে। অধ্যয়নও করছে প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার শিক্ষার্থী।

১৮ বছর পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ২টি অনুষদ বেড়ে হয়েছে ৫টি। অনুষদগুলোর অধীনে ২১টি বিভাগে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি, ব্যবসায় শিক্ষা, মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান এবং জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদের বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষার্থীরা আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষকরা তাদের মেধা, গবেষণা ও আধুনিক পাঠদান পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়টির অস্থায়ী যাত্রা শুরু হয়েছিল রাজাপুরের টিটিসি ক্যাম্পাসে। সেই অস্থায়ী যাত্রা থেকে আজ প্রায় ৩০ একর এলাকাজুড়ে স্থায়ী অবকাঠামো, একাডেমিক ভবন, আবাসিক হল ও প্রশাসনিক ভবন নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রতিষ্ঠানটির অনেক শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। কেউ কেউ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক শিক্ষার্থীরা। তাদের সফলতার গল্পে পাবিপ্রবির শুরুর দিনগুলোর সংগ্রাম ও ভালোবাসার স্মৃতি বারবার উঠে আসে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আরিফ হোসেন প্রতিষ্ঠানটিকে তার স্বপ্ন গড়ার জায়গা আখ্যা দিয়ে বলেন, পাবিপ্রবি শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি আমাদের স্বপ্ন গড়ার জায়গা। ছোট পরিসর থেকে আজকের অবস্থানে আসা সত্যিই গর্বের। আমরা চাই ভবিষ্যতে গবেষণা ও শিক্ষার মানে পাবিপ্রবি দেশের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হোক।

আরেক শিক্ষার্থী সাদিয়া পারভীন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্তরিক সম্পর্ক এবং সহশিক্ষা কার্যক্রম আমাদের আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। পাবিপ্রবির একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি গর্বিত।

সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী জীম বলেন, শুরুতে যেভাবে সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি পথচলা শুরু করেছিল, আজকের এই অগ্রগতি সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। আমরা আশা করি আগামী দিনে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পাবিপ্রবি আরও পরিচিতি লাভ করবে।

১৯ বছরে পদার্পণের এই দিনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাবেক শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় একদিন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিজের অবস্থান আরও শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করবে।