পবিপ্রবিতে জিয়া পরিষদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, নেতাদের প্রতি অনাস্থা প্রস্তাব
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) বিএনপিপন্থী কর্মকর্তা সংগঠন জিয়া পরিষদের বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, আর্থিক অস্বচ্ছতা ও সাংগঠনিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সদস্যদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান খামার তত্ত্বাবধায়ক ও জিয়া পরিষদের নির্বাহী সদস্য আরিফুর রহমান নোমান সংগঠনের নেতাদের বিষয়ে অনিয়ম ও চাঁদাবাজির বিষয়ে নিজেদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে অভিযোগ তুলে ধরেন, যার স্ক্রিনশট ইতোমধ্যে প্রতিবেদকের হাতে সংরক্ষিত আছে।
প্রতিবেদকের হাতে আসা স্ক্রিনশটের হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় আরিফুর রহমান নোমান গত ২৭ এপ্রিল বেলা ১১টা ৪১ মিনিটে দাবি করেন, বর্তমান কমিটি সদস্যদের চাঁদার স্বচ্ছ হিসাব দিতে ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে নির্দিষ্ট প্যানেলের প্রতি সংগঠনের নির্লিপ্ততা এবং জিয়া পরিষদের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান কমিটির প্রতি অনাস্থা জানাতে সদস্যদের মতামত আহ্বান করা হয়।
ঘটনার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জিয়া পরিষদের একজন কর্মকর্তা জানান, জিয়া পরিষদ কর্মকর্তা ইউনিটের বর্তমান কয়েকজন নেতা গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্থানীয় আসনের বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় লিফলেট, পোস্টার ও ফেস্টুন ছাপানোর কথা বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং বাইরের ব্যক্তিদের কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা সংগ্রহ করেছেন। তবে ওই অর্থ নির্বাচনী প্রচারণার কাজে ব্যয় করা হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডেপুটি রেজিস্ট্রার আরিফুর রহমান নোমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচন স্থগিতের পেছনে জিয়া পরিষদের নেতাদের হাত ছিল। তাদের ক্ষমতা খর্ব হয়ে যাবে ভেবে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে নির্বাচনটি স্থগিত করেছে।’ তবে চাঁদাবাজির বিষয়টি তার রাগ ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার অংশ বলে তিনি ব্যক্ত করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জিয়া পরিষদর সভাপতি মো. আবুবকর সিদ্দিক বলেন, ‘নোমানের অভিযোগের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। নিজেদের মধ্যে একটু ভুল-বোঝাবুঝি হয়েছিল, এটুকুই। তিনি এসব অভিযোগ কেন দিয়েছিলেন, সেটি তিনিই বলতে পারবেন। তবে এসব বিষয়ের কোনো সত্যতা নেই।’
তবে তিনি অভিযোগ অসত্য দাবি করলেও এ পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আরিফুর রহমান নোমানকে কোনো ধরনের ব্যাখ্যা তলব করেননি বলে জানান।