মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের সেরা ২৫% প্রোগ্রামের স্বীকৃতি পেল রাবিপ্রবি ‘হাল্ট প্রাইজ’
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষার্থীভিত্তিক সামাজিক উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম ‘হাল্ট প্রাইজ’–এর ২০২৫-২৬ সালের ‘কমিউনিটি অ্যাওয়ার্ডস’-এ অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছে রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি)। মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ‘সেরা ২৫ শতাংশ সেরা প্রোগ্রামের’ (Top 25% Best Programs) তালিকায় স্থান করে নিয়েছে ‘হাল্ট প্রাইজ অ্যাট আরএমএসটিইউ’।
হাল্ট প্রাইজ ফাউন্ডেশন আনুষ্ঠানিকভাবে এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির ফলাফল প্রকাশ করে। এর আগে, গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হাল্ট প্রাইজের অন-ক্যাম্পাস প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বের ১৩০টিরও বেশি দেশের হাজারো বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচালিত হাল্ট প্রাইজ কার্যক্রমের মধ্যে রাবিপ্রবির এই অর্জন বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক গৌরবময় ও গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
হাল্ট প্রাইজ ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা মনোভাব গড়ে তোলা, নেতৃত্বগুণ বিকাশ এবং সমাজে ইতিবাচক প্রভাব তৈরিতে ‘হাল্ট প্রাইজ অ্যাট আরএমএসটিইউ’-এর ধারাবাহিক কার্যক্রম, সৃজনশীল আয়োজন ও কার্যকর শিক্ষার্থী সম্পৃক্ততার ওপর ভিত্তি করেই এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে।
সংগঠনটি বলছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গৌরবোজ্জ্বল অর্জনের পেছনে ‘হাল্ট প্রাইজ অ্যাট আরএমএসটিইউ’-এর ক্যাম্পাস ডিরেক্টর মো. ইলিয়াসের নেতৃত্বে পুরো অর্গানাইজিং টিম, অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী, ভলান্টিয়ার এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, পেশাদারিত্ব ও নিরলস পরিশ্রম কাজ করেছে। এর পাশাপাশি, সংগঠনের উপদেষ্টা ও রাবিপ্রবি শিক্ষক ফাহিমের মূল্যবান দিকনির্দেশনা ও মেন্টরশিপ পুরো আয়োজনকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
উল্লেখ্য, হাল্ট প্রাইজ হলো বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শিক্ষার্থীভিত্তিক সামাজিক উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্ম, যেখানে তরুণরা বৈশ্বিক বিভিন্ন সমস্যার টেকসই ও বাস্তবভিত্তিক সমাধান তৈরিতে কাজ করে থাকে। প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় এবং আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায় থেকে নির্বাচিত সেরা উদ্যোগগুলো আন্তর্জাতিক মূল মঞ্চে অংশগ্রহণের পাশাপাশি বড় অঙ্কের অনুদান বা ফান্ডিংয়ের সুযোগ লাভ করে।
এই আন্তর্জাতিক অর্জনের মাধ্যমে রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বৈশ্বিক পরিসরে নিজেদের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী সক্ষমতা, দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং সামাজিক প্রভাব তৈরির সম্ভাবনার এক শক্তিশালী অবস্থান তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে।