পবিপ্রবি শিক্ষক ও কর্মকর্তাসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) ২২ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে ভ্যানচালককে মারধর, হত্যাচেষ্টা, মালামাল ছিনিয়ে নেওয়া ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে আদালতে সরাসরি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৯ মে) পটুয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (দুমকি আমলি আদালত) ভুক্তভোগী ভ্যানচালক মো. আইয়ুব আলীর পক্ষে মামলাটি দায়ের করেন পীরতলা বণিক সমিতির সভাপতি মো. বশির উদ্দিন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন আইয়ুব আলী বাজারের বিভিন্ন মালামাল নিয়ে পবিপ্রবির ১নং পূর্ব গেট এলাকায় ভ্যান থামান। এ সময় অভিযুক্তরা তাকে দ্রুত স্থান ত্যাগ করতে বললে কিছুটা দেরি হওয়ায় তাকে জোরপূর্বক বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, পবিপ্রবির সিকিউরিটি অফিসার মো. মুকিত ভিকটিমের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দিলে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। এছাড়া অন্য আসামিরা কিল-ঘুসি, লাথি ও লাঠি দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
মামলায় আরও বলা হয়, হামলার সময় ভ্যান থেকে প্রায় এক লাখ টাকার মালামাল নিয়ে নেওয়া হয়। যার মধ্যে ছিল চিনি, ভোজ্যতেল ও বিভিন্ন মশলা। পরে ভিকটিমকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
আহত অবস্থায় স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তিনি ১৪ মে থেকে ১৬ মে পর্যন্ত চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় পবিপ্রবির ২২ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিকিউরিটি অফিসার মো. মুকিত, ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন বিভাগের মো. মহিবুল্লাহ রুবেল, সহকারী রেজিস্ট্রার রিয়াজ কাঞ্চন শহিদ, সেকশন অফিসার শাহাদৎ হোসেন নান্টু, কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক মো. আতিকুর রহমান, মৃত্তিকা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এ.বি.এম সাইফুল ইসলাম ও ইকোনোমিক্স অ্যান্ড সোসিওলজি বিভাগের অধ্যাপক আবুল বশার খান।
এছাড়াও রয়েছেন খামার তত্ত্বাবধায়ক আরিফুল ইসলাম নোমান, এনিমেল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক মো. শাহাবুবুল আলম, পোল্ট্রি সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক স্বপন ফৌজদারি, ডেপুটি রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক খোকন হোসেন, ডেপুটি রেজিস্ট্রার রাহাত মাহমুদ, ডেপুটি রেজিস্ট্রার হাবিব মো. তুষার, এগ্রোফরেস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, দুমকির সোহেল রানা জনি, অফিস সহায়ক মো. আনিছুর রহমান, অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন, সেকশন অফিসার কাজী কাইয়ুম, অফিস সহায়ক দোলন মাহমুদ, প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম এবং ডেপুটি রেজিস্ট্রার কামরুজ্জামান।
জানা গেছে, দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ১৪৩ (বেআইনি সমাবেশ), ৩২৩ (আঘাত প্রদান), ৩২৪ ও ৩২৬ (মারাত্মক অস্ত্রে আঘাত), ৩৭৯ (চুরি), ৩০৭ (হত্যাচেষ্টা), ৫০৬ (ভীতি প্রদর্শন) এবং ১০৯ (অপরাধে সহযোগিতা) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলাটি গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অধিকতর তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘মামলাটি অধিকতর তদন্তের স্বার্থে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পটুয়াখালী জেলা ইউনিটের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আদালত থেকে পরবর্তী সময়ে যে নির্দেশনা দেওয়া হবে, সে অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’