২১ মে ২০২৬, ১৭:০০

পবিপ্রবির উপ-উপাচার্য হেমায়েত জাহানকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা

‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা ও অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন  © টিডিসি ফটো

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহানকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা ও অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন পবিপ্রবি প্রতিষ্ঠার অংশীজন, দুমকি এলাকাবাসী এবং মামলায় অভিযুক্তদের পরিবারের ভুক্তভোগী সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ১১টায় ঢাকা-পটুয়াখালী মহাসড়কের লেবুখালী টোল প্লাজা এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা উপ-উপাচার্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে তার অপসারণ দাবি করেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দেন।

মানববন্ধনে প্রদর্শিত ব্যানারে দাবি করা হয়, বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ মামলার হুকুমদাতা হিসেবে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান বিতর্কিত হয়ে উঠেছেন। একই সঙ্গে তাকে ‘দুর্নীতিবাজ’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা ও অপসারণের দাবি জানানো হয়।

অংশগ্রহণকারীরা দাবি করেন, পবিপ্রবি প্রতিষ্ঠাকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা সবসময় একটি স্থিতিশীল ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ প্রত্যাশা করেন। তবে উপ-উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের অনুসারী একটি গোষ্ঠী অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রশাসনিক সুবিধা ভোগকারী এবং বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এ ধরনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও প্রভাব বিস্তারের রাজনীতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা ও প্রশাসনিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেন বক্তারা।

এছাড়াও আরও দাবি করা হয়, যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলা’ দায়ের করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, তাদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

এ বিষয়ে আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী বিউটি বেগম বলেন, ‘পবিপ্রবি আমাদের এলাকার মুরুব্বিদের ত্যাগ ও পরিশ্রমের ফসল। কিন্তু প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরে নিয়োগ-বাণিজ্য ও বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে। সাধারণ মানুষ হিসেবে আমরা কখনো এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাইনি, ভবিষ্যতেও পাওয়ার আশা দেখি না। উল্টো আমাদের ভাই-বোনদের মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। এসব ঘটনার প্রতিবাদে আমরা শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনের আয়োজন করেছি। কিন্তু এখানেও একটি পক্ষ বিশৃঙ্খলা ও মব সৃষ্টির চেষ্টা করেছে।’

পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা রাকিব হাসান অভিযোগ করেন, ‘উপ- উপাচার্যের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন একটি গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে, যারা অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছে এবং এখনো নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসনের একটি অংশের সঙ্গে সমন্বয় করে অস্থিরতা ও বিভাজনের পরিবেশ তৈরি করছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’

তিনি আরও জানান, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা রাহাত মাহমুদ যিনি ‘পবিপ্রবি প্রেসক্লাব’ নামে একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি এর মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে আমরা  উপ-উপাচার্যের অপসারণের দাবি জানাই।