১৮ মে ২০২৬, ১৩:৫৫

হাবিপ্রবিতে কাঁচা আম-লিচু পাড়ার হিড়িক, স্বাস্থ্যঝুঁকির শঙ্কা

রাতের আঁধারে পাড়া নিচু  © টিডিসি

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসজুড়ে গাছ থেকে অপরিপক্ব আম ও লিচু পাড়ার প্রবণতা বেড়েছে। আবাসিক হল, একাডেমিক ভবনের আশপাশ এবং রাস্তার ধারের গাছগুলো থেকে মৌসুমের আগেই কাঁচা ফল সংগ্রহ করছেন একদল শিক্ষার্থী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরিপক্ব ফল শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের লিচুবাগান ও বিভিন্ন গাছে এখনো ছোট ছোট লিচু ও আমের গুটি ঝুলছে। স্বাভাবিকভাবে এসব ফল পরিপক্ব হতে আরও কিছুদিন সময় লাগার কথা। তবে তার আগেই অনেক শিক্ষার্থী ঢিল ছুড়ে কিংবা লাঠি দিয়ে ফল পেড়ে নিচ্ছেন। গ্রীষ্মের তীব্র গরমে কিছু লিচুতে আগাম লালচে আভা দেখা দেওয়ায় কাঁচা অবস্থাতেই তা খাওয়ার আগ্রহ বাড়ছে। কেউ কেউ আবার কাঁচা আম লবণ-মরিচ দিয়ে মেখে খাচ্ছেন।

আবাসিক হলগুলোতেও ফল পাড়াকে কেন্দ্র করে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে রাতের বেলা কিংবা ভোরে হল এলাকার গাছগুলো থেকে আম-লিচু পেড়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। অনেকেই বলেন, মাঝরাতে হলের বারান্দা বা জানালার পাশ থেকেও ফল পাড়ার শব্দ শোনা যায়।

কবি সুফিয়া কামাল হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, কিছু শিক্ষার্থী দল বেঁধে গাছে উঠে বা বিভিন্ন উপায়ে ফল সংগ্রহ করছে। বাধা দেওয়া হলেও অনেক সময় তারা তা আমলে নিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তারা।

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়েছে, কাঁচা বা আধাপাকা লিচুতে হাইপোগ্লাইসিন নামের একটি উপাদান থাকতে পারে, যা শরীরে বমি বমি ভাব ও অসুস্থতার কারণ হতে পারে। এ ছাড়া মিথাইলিন সাইক্লোপ্রোপাইল গ্লাইসিন নামের আরেকটি উপাদান রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমিয়ে দিতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বলেন, ‘আম ও লিচু পাড়ার বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। তবে সব জায়গায় পর্যাপ্ত নজরদারি রাখা সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয়।’