১৭ মে ২০২৬, ২০:০৫

শিক্ষার্থীরা ঢুকতে দেয়নি, ইউএনও অফিসে গিয়ে যোগদান করলেন ডুয়েট ভিসি

ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল  © টিডিসি সম্পাদিত

গাজীপুরে অবস্থিত ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) নবনিযুক্ত ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আজ রবিবার (১৭ মে) সকাল ১০টার দিকে নবনিযুক্ত ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল দায়িত্ব গ্রহণের উদ্দেশে ডুয়েট ক্যাম্পাসে পৌঁছালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপরই শুরু হয় দফায় দফায় সংঘর্ষ।

এদিকে, সংঘর্ষের মুখে নবনিযুক্ত ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না পেরে পাশের গাজীপুর সদর উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে আশ্রয় নেন। পরে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কক্ষে পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে অবস্থান করেন। বিকেলে সেখানেই তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন বলে জানা গেছে। 

রাতে গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাজ্জাত হোসেন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, বিকেলে ইউএনও অফিসে নবাগত ভিসি ড. মোহাম্মদ ইকবাল দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। 

ক্যাম্পাসে সংঘর্ষের ঘটনায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কাজ করছেন। এজন্য বিষয়টি তারা দেখছেন বলে জানান তিনি।

সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ডুয়েট ক্যাম্পাস ও আশপাশ এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

জানা গেছে, ডুয়েটে নতুন ভিসির আগমন ঠেকাতে সকালে আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে সেখানে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বহিরাগতদের নিয়ে এসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে পরিস্থিতি দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং ক্যাম্পাসজুড়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এগিয়ে গেলে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েক দফা টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে।

সংঘর্ষে ইটের আঘাতে গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার তাহেরুল হক চৌহান, উপ-পুলিশ কমিশনার রবিউল, সদর থানার ওসি (তদন্ত) মো: আমিনুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাত হোসেন, এক সাংবাদিকসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন।