বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের লিফটে আটকা ১১ শিক্ষার্থী, আধঘণ্টা পর উদ্ধার
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) মুন্সী মেহেরুল্লাহ হলের লিফটে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ১১ জন শিক্ষার্থী আটকে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। আটকে পড়ার প্রায় আধা ঘণ্টা পর তাদের উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী নাঈম হাসান হল প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজে যাওয়ার সময় হলের লিফটে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, সন্ধ্যায় কয়েকজন শিক্ষার্থী লিফট ব্যবহার করে নিচে নামার সময় হঠাৎ সেটি বিকল হয়ে মাঝপথে আটকে যায়। সে সময় লিফটের ভেতরে মুন্সী মেহেরুল্লাহ হলের প্রায় ১১ জন আবাসিক শিক্ষার্থী অবস্থান করছিলেন। দীর্ঘ সময় বদ্ধ পরিবেশে আটকে থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং গরম ও শ্বাসকষ্টে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। আটকে পড়া শিক্ষার্থীরা লিফট অপারেটরকে ফোনে বিষয়টি জানালে, অপারেটর এসে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। তবে শিক্ষার্থীদের বের করে আনতে প্রায় ২০ মিনিটের অধিক সময় লাগে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নার্সিং অ্যান্ড হেলথ সায়েন্স বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাঈম হাসান বলেন, মাগরিবের নামাজে যাওয়ার সময় আমরা প্রায় ১১ জন লিফটে উঠে দীর্ঘ সময় আটকে পড়ি। দ্রুত জানানো হলেও উদ্ধার করতে প্রায় ২০ মিনিটের বেশী সময় লেগেছে। ভেতরে আতঙ্ক, গরম ও শ্বাসকষ্টে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়ে। এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়; এর আগেও একাধিকবার এমন ঘটনা ঘটেছে। অথচ প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। আজ বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায় কে নিত? শিক্ষার্থীদের জীবন নিয়ে আর অবহেলা নয়—দ্রুত নিরাপদ ও স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুন্সি মেহেরুল্লাহ হলের প্রভোস্ট আব্দুর রউফ সরকার বলেন, আমি লিখিত অভিযোগটি পেয়েছি। ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা শিক্ষার্থীদের উদ্ধারে লিফট অপারেটরদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করি। লিফটসংক্রান্ত এই জটিলতা কমানোর লক্ষ্যে আপাতত তিন তলা পর্যন্ত লিফট ব্যবহার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া লিফট অপারেটরদের সার্বক্ষণিকভাবে হলে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ার শাফাওয়াতের সঙ্গেও কথা বলেছি, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের সমস্যা আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। হলের লিফটে শিক্ষার্থী আটকা পড়ার ঘটনাকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি।
তিনি আরও বলেন, লিফটের যান্ত্রিক ত্রুটি বা বিকল হয়ে যাওয়ার বিষয়টি সরাসরি আমাদের নিয়ন্ত্রণাধীন নয়; এটি সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারিং দপ্তরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। তবে হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা সার্বক্ষণিকভাবে তদারকি করি, যাতে লিফট অপারেটররা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তাদের নির্ধারিত কাজ সঠিকভাবে পালন করেন।
লিফটসংক্রান্ত জটিলতার বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ার সাফাওয়াত হোসেন বলেন, লিফট পরিচালনার ক্ষেত্রে এ ধরনের সাময়িক জটিলতা খুবই সাধারণ বিষয়। এটি সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা সম্ভব নয়।