আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় নেই গোবিপ্রবি, ক্ষোভ শিক্ষার্থীদের
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অ্যাথলেটিকস (ছাত্র-ছাত্রী) ও বাস্কেটবল (ছাত্র) প্রতিযোগিতা। এতে অংশ নিতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। সোমবার (৪ মে) থেকে বুধবার (৬ মে) পর্যন্ত দেশের ৫৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে মোট ১৯টি ইভেন্টে তিন দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সোমবার বিকেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় এতে অংশ নিলেও গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অংশ নিতে না পারায় শিক্ষার্থীরা তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিয়মিত অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতা থাকা সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ এ প্রতিযোগিতা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাদ পড়া অত্যন্ত হতাশাজনক। তাদের মতে, এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা তাদের দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় যেখানে বাংলাদেশের প্রায় সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণ করছে, সেখানে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় কেবল ফুটবলে অংশ নিচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘অন্যান্য ইভেন্টে অংশগ্রহণের জন্য বাবুল মণ্ডল স্যারকে (শরীর চর্চা শিক্ষক) বলা হলেও তিনি অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে এটি সত্যিই হতাশাজনক। যখন অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় একাধিক ইভেন্টে অংশ নেয়, অথচ আমরা পারি না।’
আরও পড়ুন: শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন প্রকল্প গ্রহণে আগ্রহী ইউনেস্কো
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর বলেন, ‘এটি আমার চেয়ে বাবুল মণ্ডল (সহকারী পরিচালক, শরীরচর্চা শিক্ষা) ভালো বলতে পারবেন। হয়তো আমাদের প্রশিক্ষিত খেলোয়াড় নেই। খেলাধুলা দেখভালের জন্য আলাদা কমিটি রয়েছে। তারা কোনো বিষয় উত্থাপন করলে আমরা তা এগিয়ে দিই। এর আগে ড্যাফোডিলে ফুটবল খেলেছে, আবার চট্টগ্রামেও খেলতে যাচ্ছে।’
শরীরচর্চা শিক্ষা বিভাগের সহকারী পরিচালক বাবুল মণ্ডল বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতির কারণে আমরা অনেক ক্ষেত্রে উপাচার্য ও উপ- উপাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পাইনি। ক্রীড়া কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ায় আছে—এতদিন কোনো ক্রীড়া কমিটিই ছিল না। এছাড়া ফুটবল নিয়ে কিছু জটিলতা ও খেলার বিরতি ছিল।’
সবকিছু মিলিয়ে এবার অংশগ্রহণ করা সম্ভব হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আশা করছি, ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি আর হবে না। পরবর্তী আসরগুলোতে আমরা অংশগ্রহণ করব।’