০৫ মে ২০২৬, ১১:৫০

কুয়েটে নিরাপত্তা ও একাডেমিক সংস্কারে একগুচ্ছ উদ্যোগ, যুক্ত হচ্ছে পুলিশ ক্যাম্প

বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাকক্ষে মতবিনিময় সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড মুহাম্মদ মাছুদসহ অন্যরা  © টিডিসি

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, একাডেমিক কাঠামো ও সার্বিক ক্যাম্পাস ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের কথা জানিয়েছে প্রশাসন। সোমবার (৪ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাকক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক ড মুহাম্মদ মাছুদের সভাপতিত্বে প্রশাসনের সঙ্গে সব বিভাগের ভিপি, জিএস ও সিআরদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এসব বিষয় উঠে আসে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা জোরদারে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করা হবে, যা পরবর্তী সময়ে স্থায়ী রূপ পাবে। এ ক্ষেত্রে পুলিশি উপস্থিতি শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক কার্যক্রমে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটাবে না বলেও আশ্বস্ত করা হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং যেকোনো সন্দেহজনক বা অপরাধমূলক কার্যক্রম প্রশাসনকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ ও অবস্থান নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে প্রশাসন। বিশেষ করে হলগুলোতে বহিরাগতদের অবস্থান শনাক্ত হলে তা সংশ্লিষ্ট হল প্রভোস্টকে জানানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আইটি পার্ক এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গেট বন্ধ রাখাসহ বিদ্যমান ব্যবস্থাগুলো কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

একাডেমিক কার্যক্রমের উন্নয়নে নতুন উদ্যোগের কথাও উঠে এসেছে সভায়। প্রশাসন জানিয়েছে, ভবিষ্যৎ ব্যাচ থেকে পরীক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে মিডটার্ম পরীক্ষার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। পাশাপাশি মূল্যায়ন পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা আনতে ইউনিক কোডিং বা অ্যানোনিমাস মূল্যায়ন ব্যবস্থার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে, যা পূর্বে অনুমোদিত হলেও বাস্তবায়ন হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়।

ডিজিটালাইজেশনের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের জন্য একটি সমন্বিত ইউনিক আইডি সিস্টেম চালুর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে প্রশাসন। একই সঙ্গে ফি প্রদান ও কোর্স রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া অনলাইনে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা শিগগিরই কার্যকর হতে পারে।

অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়েও বড় পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়েছে। প্রশাসন আশা প্রকাশ করেছে, নতুন আবাসিক হল নির্মাণের মাধ্যমে আবাসন সংকট অনেকটাই লাঘব হবে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে একাডেমিক ও আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সুবিধা সম্প্রসারণ, যেমন মেডিকেল সাপোর্ট ও ক্যাম্পাসভিত্তিক সেবার উন্নয়নেও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সভায় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রস্তাব ও সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়, যার মধ্যে ছিল খাদ্যের মূল্য ও মান, আবাসন সমস্যা, নিরাপত্তা, গবেষণা তহবিল, ইন্টারনেট সুবিধা, ক্লাসরুম সংকটসহ নানা বিষয়। এসব বিষয়ে প্রশাসন পর্যায়ক্রমে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

শিক্ষার্থীরা মনে করছে সভায় গৃহীত এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে কুয়েটের শিক্ষার পরিবেশ, নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা আরও উন্নত হবে।