ছাত্রী-কাজের বুয়া থেকে ষাটোর্ধ্ব নারী—সবই আছে তার গুগল ড্রাইভে
অশ্লীল ভিডিওকাণ্ডে উত্তাল খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)। সেখানকার এক শিক্ষার্থীর অনলাইনের গুগল ড্রাইভে স্কুলপড়ুয়া ছাত্রী থেকে শুরু করে বাসার কাজের বুয়া, এমনকি ষাটোর্ধ্ব নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক ও যৌন নির্যাতনের ভিডিও পাওয়া গেছে।
অভিযুক্ত ওই শিক্ষার্থীর নাম হাসিব। তিনি কুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ২০২০ ব্যাচের শিক্ষার্থী। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে
জানা গেছে, গতকাল রবিবার (২৬ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ল্যাবের কম্পিউটারে নিজের গুগল ড্রাইভ অ্যাকাউন্ট লগইন করেন অভিযুক্ত শিক্ষার্থী। পরবর্তীতে তিনি অ্যাকাউন্ট লগ আউট করতে ভুল যান। পরে ল্যাবে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (আইইএম) বিভাগের ২০২২ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ল্যাব করতে গিয়ে ওই অ্যাকাউন্টটি দেখতে পান।
সেখানে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে আলাদা ফোল্ডারে ছবি ও ভিডিও সংরক্ষিত ছিল, যেগুলোকে ‘ট্রফি’ হিসেবে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এসব কনটেন্টের মধ্যে বিভিন্ন বয়সী মেয়ে মানুষের ছবি ও ভিডিও রয়েছে বলে শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন।
ধারণা করা হচ্ছে, ডজনখানেক ধর্ষণ ও শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও রেখেছিলেন তিনি। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, জোর করে যৌন নির্যাতন করে এবং ইচ্ছার বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্ক করেছেন অভিযুক্ত হাসিব।
এদিকে, ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর রাতে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ফজলুল হক হলে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর কাছে জবাবদিহি চান। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও হাতাহাতির সৃষ্টি হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিতে ফজলুল হক হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আরিফুজ্জামান, খান জাহান আলী হলের প্রভোস্ট ড. মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইলিয়াস আখতার ও সহকারী ছাত্রকল্যাণ পরিচালক রাজন কুমার রাহা রয়েছেন।
ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. হাসান আলী বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্তে প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিএসই বিভাগের অন্য শিক্ষার্থীরা। তারা অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর সঙ্গে ক্লাস করতে অনীহা প্রকাশ করে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।