০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:০৩

রুয়েটের সেলিম হলের ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা, আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা

ছাদ থেকে খসে পড়া পলেস্তারা  © টিডিসি

‎রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ঐতিহ্যবাহী শহিদ লেফটেন্যান্ট সেলিম হল এখন শিক্ষার্থীদের জন্য আতঙ্কের নাম। হলের দেয়াল ও ছাদে ফাটল, খসে পড়ছে পলেস্তারা, বৃষ্টির দিনে পানি ঝরছে কক্ষজুড়ে। পুরোনো এই ভবনটি এখন যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। অথচ প্রশাসন থেকে আশ্বাস মিললেও দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন নেই। ভয় আর অনিশ্চয়তার মধ্যেই দিন কাটছে শিক্ষার্থীদের।

‎আবাসিক শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলের বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির দিনে ছাদ বেয়ে পানি পড়ে। হঠাৎ হঠাৎ ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে। একাধিকবার হল প্রশাসনকে তারা জানিয়েছেন, দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

‎দ্রুত হলটির প্রয়োজনীয় সংস্কার ও বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে ভবনের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধান করা জরুরি বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।

‎হলে অবস্থানরত এক আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, ‘মাঝেমাঝে দেখা যায় হলের ছাদের পলেস্তরা খসে পরছে। এ ছাড়া ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল রয়েছে। শিক্ষার্থীরা সব সময় ভয়ে থাকে, এই বুঝি পলেস্তরা খসে মাথায় পড়ে। ভূমিকম্পের বিষয়টিও আমাদের মধ্যে বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করছে।’

‎শুধু অবকাঠামোগত সমস্যাই নয়, হলের ইন্টারনেট ব্যবস্থাও অত্যন্ত নাজুক বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘ইন্টারনেট সংযোগ অত্যন্ত দুর্বল। এমনকি রিডিং রুমেও ঠিকমতো ইন্টারনেট পাওয়া যায় না, যা আমাদের পড়াশোনায় মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।’

‎‎এ বিষয়ে শহিদ লেফটেন্যান্ট সেলিম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আবু বকর সিদ্দিক দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। এটি রুয়েটের সবচেয়ে প্রাচীন হল হওয়ায় ভবনটি অনেক পুরাতন হয়ে গেছে। আমরা শিক্ষার্থীদের আবাসন দিতে চাইনি, কিন্তু আবাসন সংকটের কারণে নিরুপায় হয়ে এলটমেন্ট দিতে হয়েছে। গত বছর একবার মেরামত করা হলেও একটি জায়গা সংস্কার করার কিছুদিন পর অন্য জায়গায় সমস্যা দেখা দিচ্ছে।’