২৫ মার্চ ২০২৬, ১২:২৯

আধুনিকতার ছোঁয়ায় নান্দনিক হয়ে উঠছে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস  © সংগৃহীত

পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে আসা সবুজের সমারোহ পাশে নীলাভ কাপ্তাই হ্রদ আর শান্ত প্রকৃতির আবহ এই তিনের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে পার্বত্য চট্টগ্রামের একমাত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি)। বিশ্ববিদ্যালয়টি এখন শুধু উচ্চশিক্ষার কেন্দ্র নয়, ধীরে ধীরে বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর ও আকর্ষণীয় ক্যাম্পাস হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।

ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে প্রথমেই চোখে পড়ে প্রকৃতি আর স্থাপত্যের দারুণ সমন্বয়। পাহাড় ও হ্রদের কাছাকাছি এমন সুন্দর পরিবেশে বিশ্ববিদ্যালয় খুব কমই দেখা যায়। এমন সুন্দর পরিবেশেই প্রতিদিন পড়াশোনা ও কাজ করা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য আনন্দদায়ক ও স্বস্তির।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার রহমানের পরিকল্পনায় ক্রমাগত উন্নয়ন ও পরিকল্পিত অবকাঠামোর কারণে বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশের সবচেয়ে সুন্দর ক্যাম্পাসগুলোর একটি হয়ে উঠছে বলে নেটিজেনরা মনে করছেন। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে সৌন্দর্যের প্রশংসা করেন।

বর্তমানে অসংখ্য বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায়ও উপরে থাকছে সৌন্দর্যের অধিকারী এই বিশ্ববিদ্যালয়। সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়ে একটা আসনের অপেক্ষায়ও অনেক শিক্ষার্থী।

২০০১ সালে আইন পাসের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হলেও বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে। শুরুতে সীমিত সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ভাড়া ভবনে ক্লাস ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালু থাকলেও দীর্ঘ সময়ের নানা চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে এখন নিজস্ব ক্যাম্পাসে চলছে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম। আজ পাহাড় আর হ্রদ ঘেরা নিজস্ব ক্যাম্পাসে দাঁড়িয়ে রাবিপ্রবি পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঁচটি বিভাগে পড়াশোনা চালু রয়েছে। বিভাগগুলো হলো কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স, ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্সেস টেকনোলজি, ম্যানেজমেন্ট ও ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট। চালু হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে ডাটা সায়েন্স, মেডিসিন, বায়োকেমিস্ট্রির মতো জনপ্রিয় বিষয়গুলো। প্রতিটি বিভাগেই পর্যাপ্ত শিক্ষক থাকায় শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক ঘনিষ্ঠ পরিবেশে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে।

বর্তমান প্রশাসন গবেষণার ওপর দিচ্ছে বিশেষ গুরুত্ব। প্রতিষ্ঠা করা হয়েছ রিসার্চ ও ইনোভেশন সেল। শিক্ষক গবেষণা অনুদান, আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশনায় প্রনোদনা, কনফারেন্স গ্রান্টের মাধ্যমে ধীরে ধীরে গবেষণা পরিবেশের উন্নতি হচ্ছে। নেওয়া হয়েছে দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ, যাতে জ্ঞান ও গবেষণার আদান প্রদান সহজ হয়। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাঙ্কিংয়ে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতিও চলছে, যা ভবিষ্যতে রাবিপ্রবিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত করতে সাহায্য করবে।

ক্যাম্পাসজুড়ে এখন একাধিক একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন ও আবাসিক হল নির্মাণাধীন। প্রতিটি স্থাপনায় নান্দনিকতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে, যাতে এগুলো শুধু ব্যবহারিক না হয়ে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যও বাড়ায়।

পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, শ্রেণিকক্ষ সংস্কার ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরির কারণে ক্যাম্পাসে ঢুকলেই একধরনের ভালো লাগা কাজ করে, যা একটি আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দিক। শিক্ষার্থীদের মতে, কোনো ক্যাম্পাসে ঢুকেই যদি মন ভালো হয়ে যায়, সেটাই আসলে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ আর সেই অনুভূতি এখন রাবিপ্রবিতে পাওয়া যায়।

রাবিপ্রবি শুধু শিক্ষার জায়গা নয়, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের দিক থেকেও আলাদা। পাহাড়ি ও সমতলের শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে বসবাসে এখানে সুন্দর সম্প্রীতির পরিবেশও তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি ও উৎসব ক্যাম্পাস জীবনে আলাদা মাত্রা যোগ করে।

বিভিন্ন ক্লাব ও সহশিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব, সৃজনশীলতা ও সামাজিক অংশগ্রহণ বাড়াতে সাহায্য করছে। পাহাড়ি সংস্কৃতি আর আধুনিক শিক্ষার মিলনে ক্যাম্পাসটি হয়ে উঠছে প্রাণবন্ত।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, আধুনিক স্থাপনা, গবেষণামুখী শিক্ষা ও দূরদর্শী নেতৃত্ব এই চার ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে রাবিপ্রবি এগিয়ে যাচ্ছে নতুন পরিচয়ের দিকে। পাহাড় আর লেককে সঙ্গী করে গড়ে ওঠা এই শিক্ষাঙ্গন খুব শিগগির দেশের অন্যতম সুন্দর ও মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে প্রত্যাশা এখন সবার।