রাবিপ্রবির রমজানের দিনগুলোতে গড়ে ওঠে সম্প্রীতির এক অপূর্ব মেলবন্ধন
পবিত্র রমজান মাস মুসলিম উম্মাহর জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের এক অনন্য বার্তা নিয়ে আসে। এই মাসে প্রতিটি মুমিনের হৃদয়ে জাগে আত্মশুদ্ধি, সংযম ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের গভীর আকাঙ্ক্ষা। আর এই পবিত্র আবহ যখন ছুঁয়ে যায় রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসকে, তখন তা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় অনুশীলনে সীমাবদ্ধ না থেকে পরিণত হয় এক অপূর্ব সম্প্রীতি, ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্বের মিলনমেলায়।
পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থাকা অসংখ্য শিক্ষার্থীর জন্য ক্যাম্পাসে কাটানো এই রমজান যেন এক ভিন্ন অনুভূতির নাম। কারও জন্য এটি প্রথম রমজান, আবার কারও জন্য শেষ। তাই প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি ইফতার, প্রতিটি সেহরি হয়ে ওঠে স্মৃতির অমূল্য সম্পদ।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৯ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ২০ দিনের ছুটি ঘোষণা করলে, ক্লাস-পরীক্ষা শেষে এবং টিউশনের বেতন হাতে পেয়েই অনেক শিক্ষার্থী ফিরেছে আপন ঠিকানায়। ধীরে ধীরে ফাঁকা হয়ে এসেছে প্রিয় ক্যাম্পাস, নিঃশব্দ হয়ে গেছে চিরচেনা আড্ডাস্থলগুলো।
তবে তার আগের দিনগুলোতে রাবিপ্রবি ছিল যেন এক জীবন্ত সম্প্রীতির প্রতিচ্ছবি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলগুলো তৈরি করেছিল এক অনন্য আবহ। সেখানে ধর্ম, বিভাগ কিংবা ব্যাচের কোনো ভেদাভেদ ছিল না সবাই ছিল এক কাতারে, এক টেবিলে, এক হৃদয়ে।
প্রতিদিন ইফতারের সময় হলের প্রতিটি কোণ যেন প্রাণ ফিরে পেত। ডাইনিং হল, ছাদ কিংবা রুম কোথাও ছিল না কোনো ফাঁকা জায়গা। ৬৪ একরের ক্যাম্পাসজুড়ে যেন ছড়িয়ে পড়েছিল উৎসবের আমেজ। হাসি, গল্প, দোয়া আর একসাথে বসে খাওয়ার আনন্দ সব মিলিয়ে প্রতিটি দিন হয়ে উঠেছিল একেকটি জীবন্ত স্মৃতি।
এখন রমজান শেষের পথে, ক্যাম্পাস প্রায় শূন্য। তবুও শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে রয়ে গেছে সেই দিনগুলোর উষ্ণতা। একসাথে সেহরি করা, ইফতারের সময় অপেক্ষা করা, আজানের সাথে সাথে খেজুর মুখে তোলা এসব মুহূর্ত এখন স্মৃতির পাতায় বন্দি।
সবাই হয়তো এখন একটাই প্রশ্ন মনে লালন করছে, কবে আবার ফিরবে সেই দিনগুলো।