১৬ মার্চ ২০২৬, ১৯:১৭

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে সরিয়ে দেওয়া অধ্যাপক মাছুদ ফের কুয়েট উপাচার্য

অধ্যাপক মুহাম্মদ মাছুদ  © ফাইল ছবি

গত বছরের এপ্রিল মাসে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ মাছুদ ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বছর না পেরোতেই অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদকে ফের বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আজ সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ ঘোষণা দেন তিনি।

জানা যায়, গত বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি কুয়েটে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় শতাধিক লোক আহত হন। পরদিন প্রশাসনিক ভবনসহ সব একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। ওই দিন দুপুরে সিন্ডিকেট সভায় কুয়েটে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। ২৫ ফেব্রুয়ারি সব আবাসিক হল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর আবাসিক হল খুলে দেওয়ার দাবিতে ১৩ এপ্রিল বিকেল থেকে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন।

এরপর ১৪ এপ্রিল রাতে সিন্ডিকেট সভায় সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩৭ শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই ঘটনার জেরে গত ১৯ এপ্রিল উপাচার্যের পদত্যাগের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়। বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে উপাচার্য মুহাম্মদ মাছুদের পদত্যাগ না করায় ২০ এপ্রিল থেকে অনশন চালানোর ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

উপাচার্য মুহাম্মদ মাছুদের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আমরণ অনশনরত শিক্ষার্থীরা প্রায় ৫৮ ঘণ্টা পর তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। ২৩ এপ্রিল দিবাগত রাত একটার দিকে তাঁদের জুস পান করিয়ে অনশন ভাঙান বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য (ইউজিসি) অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান।

পরদিন ২৪ এপ্রিল উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ মাছুদ ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে পদত্যাগের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।