পবিপ্রবিতে ডেপুটি রেজিস্ট্রারকে জিয়া পরিষদের কারণ দর্শানোর নোটিশ
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) প্রশাসনিক চিঠি ইস্যুকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. শাহজালালকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে জিয়া পরিষদ পবিপ্রবি শাখা।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) জিয়া পরিষদ পবিপ্রবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক কে এম শাহাদাত হোসেন মিয়ার স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে এ শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়। চিঠিতে তাকে আগামী ১৬ মার্চের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
জিয়া পরিষদ পবিপ্রবি শাখার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দপ্তর থেকে ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. শাহজালালের স্বাক্ষরিত একটি শোকজ নোটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমানের কাছে পাঠানো হয়। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত জিয়া পরিষদ পবিপ্রবি শাখার ১৩ মার্চের অনলাইন সাধারণ সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. শাহজালাল উপস্থিত সদস্যদের উদ্দেশে দাবি করেন যে, তার সম্মতি ছাড়া বর্তমান উপাচার্য তার স্ক্যান করা স্বাক্ষর ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট পত্রটি ইস্যু করেছেন। সংগঠনটির চিঠিতে বলা হয়, এমন বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি একটি স্পর্শকাতর প্রশাসনিক বিষয়কে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছেন, যা সংগঠনের অভ্যন্তরে বিভ্রান্তি ও বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
এ বিষয়ে ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. শাহজালাল এর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘উপাচার্যের কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সময় অনিচ্ছাকৃত পরিস্থিতি মেনে নিতে হয়। সংশ্লিষ্ট পত্র ইস্যুর বিষয়ে আমাকে জানানো হলে আমি শুরুতে এতে দ্বিমত পোষণ করেছিলাম এবং বলেছিলাম এটি আমার পক্ষে সম্ভব নয়। পরে উপাচার্য আমার স্ক্যান করা স্বাক্ষর পাঠাতে বললে আমি তা পাঠিয়ে দেই এবং পরবর্তী বিষয়টি উপাচার্যই দেখবেন বলে আমাকে জানানো হয়েছিল।’
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক কার্যক্রমের বিষয়ে কোনো সংগঠনের শোকজ নোটিশ জারি করার এখতিয়ার নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ, এবং সে সময় ডেপুটি রেজিস্ট্রার উপস্থিত না থাকায় প্রয়োজনীয় নথিটি তার কাছ থেকে স্ক্যান করে নেওয়া হয়েছিল।
উপাচার্য দাবি করেন, এ ঘটনাকে ঘিরে জিয়া পরিষদের পক্ষ থেকে যেসব বক্তব্য ও অভিযোগ তোলা হচ্ছে, সেগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।