পাবিপ্রবি গেটসংলগ্ন দোকানের ইফতারে গোবরে পোকা
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) প্রধান ফটকসংলগ্ন একটি দোকান থেকে কেনা ইফতার সামগ্রীর মধ্যে গোবরে পোকা পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেল প্রায় ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন আবু সাঈদের দোকান থেকে ইফতারি কিনে নিয়ে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী শামীমা সুলতানা। পরে তিনি রুমে গিয়ে ইফতারি খাওয়ার সময় খাবারের ভেতরে একটি গোবরে পোকা দেখতে পান বলে অভিযোগ করেন।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটসংলগ্ন এসব দোকানে দীর্ঘদিন ধরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত ও বিক্রি করা হলেও কার্যকর কোনো তদারকি দেখা যায় না। একাধিক শিক্ষার্থী জানান, সাঈদের দোকানে প্রায়ই বাসি ছোলাসহ বিভিন্ন খাবার বিক্রি করা হয়। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
অভিযোগকারী শিক্ষার্থী শামীমা সুলতানা জানান, বিকেলে টিউশন শেষ করে ক্যাম্পাসের সামনের সাইদের দোকান থেকে ছোলা, আলুর চপ আর পেঁয়াজু নিয়ে আসি। ইফতার করার জন্য যখন আলুর চপ ভাঙি তখন এই পোকাটা পাই। আমি হাতে নিয়ে শিউর হলাম এইটা পোকা। “একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে এমন অস্বাস্থ্যকর খাবার পাওয়া, বিশেষ করে রোজার দিনে, খুবই দুঃখজনক” বলেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে দোকানে গেলে আবু-সাইদের কর্মচারীরা জানান, তিনি বাসায় আছে। পরে মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তাকে পাওয়া যায় না। দোকানের কর্মচারী আক্তার হোসেন অভিযোগের বিষয়টি জানার পর বলেন, আমাদের অসাবধানতায় হয়ত ভুল হয়ে গেছে, এরপর থেকে আমরা সতর্ক থাকব এবং এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে সেইদিকে খেয়াল রাখব।
উল্লেখ্য, এর আগেও একই দোকানকে ঘিরে খাবারের মান নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ উঠেছিল। গত বছরের ১৯ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন একই দোকানের সিঙাড়ার ভেতরে গোবরে পোকা পাওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। সেদিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের দুই শিক্ষার্থী সিঙাড়া খাওয়ার সময় এর ভেতরে পোকা দেখতে পান এবং বিষয়টি ক্যামেরাবন্দি করেন।
ঘটনার প্রেক্ষিতে দোকান মালিক আবু-সাঈদ সেসময় সিঙাড়ায় পোকা পাওয়ার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর হবে না বলে আশ্বাস দিলেও এক বছরের ব্যবধানে একই ধরনের অভিযোগ আবারও ওঠায় শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি না থাকায় এসব দোকানে খাবারের মান ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে কোনো ধরনের জবাবদিহিতা নেই। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়বে।’