জার্মানির হফ বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিস্টার এক্সচেঞ্জের সুযোগ পেয়েছে বুটেক্সের তিন শিক্ষার্থী
জার্মানির হফ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) সেমিস্টার এক্সচেঞ্জ বাস্তবায়ন হয়েছে। এর আওতায় ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের (এমএসসি) তৃতীয় সেমিস্টারে থিসিস করার সুযোগ পেয়েছেন বুটেক্সের তিন শিক্ষার্থী। তারা সাস্টেইনেবিলিটি ইন টেক্সটাইলস প্রোগ্রামের মাস্টার্স প্রথম ব্যাচে অধ্যয়ন করছিলেন।
এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামটি এ দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমঝোতা চুক্তি এবং BUTEX-GIZ-KiK প্রকল্পের স্কলারশিপ প্রোগ্রামের মাধ্যমে পরিচালিত বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
গতবছরের জুলাই মাসে বুটেক্সে সাস্টেনিবিলিটি ইন টেক্সটাইলস বিষয়ে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের এই এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। আবেদনকারীদের দাখিলকৃত রিসার্চ প্রোফাইল, মোটিভেশনাল লেটার, একাডেমিক ফলাফলের কপিসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের যাচাই বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে তিনজন শিক্ষার্থীকে সেমিস্টার এক্সচেঞ্জের সুযোগ দেওয়া হয়। আগামী ৪ মার্চ থেকে তাদের সেমিস্টার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামটিতে সুযোগপ্রাপ্ত এই তিন শিক্ষার্থী হলেন- জাহিদুল ইসলাম আকাশ, সুস্মিতা পাল ও ফাহমিদা আক্তার তিশা। তাদের এই এক্সচেঞ্জ থিসিস সেমিস্টারে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে বুটেক্সের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. উম্মুল খায়ের ফাতেমা এবং সহ-তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে হফ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাইকেল রাউখ, অধ্যাপক ড. ক্যাথারিনা নয়মান ও অধ্যাপক ড. আনেট ম্যাথাই থাকবেন।
তাদের কাজের মধ্যে থাকবে টেকসই টেক্সটাইল নিয়মাবলী ও রাসায়নিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত গবেষণা, আধুনিক ল্যাবভিত্তিক বিশ্লেষণ ও তথ্য বিশ্লেষণ, আন্তর্জাতিক গবেষণা পদ্ধতির সঙ্গে নেটওয়ার্ক তৈরি, ইন্ডাস্ট্রি–ইউনিভার্সিটি সহযোগিতামূলক কাজের সুযোগ ও টেকসই টেক্সটাইল খাতে বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন।
বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে জাহিদুল ইসলাম আকাশ বলেন, জার্মানিতে থিসিস করতে পারাটাকে আমি আমার একাডেমিক যাত্রায় সমূহ সম্ভাবনা হিসেবে দেখছি। সেখানের অধ্যাপকদের তত্ত্বাবধানে মাল্টি-কালচারাল পরিবেশে কাজ করা, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সাথে কো-অর্ডিনেশন ও সর্বজনস্বীকৃত গবেষকদের সান্নিধ্যে বিশ্বমানের ল্যাব সুবিধা পাওয়াটা আমার জন্য বড় একটি সুযোগ। পাশাপশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বুটেক্স তথা বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করাটা আনন্দের, একইসাথে দায়িত্বপূর্ণ একটি কাজ।
তিনি আরও বলেন, এই গবেষণা তথা মাস্টার্স প্রোগ্রাম শেষে আমার আরও গবেষণা ভিত্তিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়া এবং উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করার পরিকল্পনা আছে। বাংলাদেশের টেক্সটাইল সেক্টর এখন পর্যন্ত টেকসই না। বহির্বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে দেশের টেক্সটাইল খাতের উন্নয়ন এবং এটিকে আরও টেকসই করে গড়ে তোলা আমার অন্যতম ভবিষ্যত উদ্দেশ্য।
সুস্মিতা পাল বলেন, এই এক্সচেঞ্জ সেমিস্টারের মাধ্যমে আমি আন্তর্জাতিক গবেষণা পরিবেশে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছি। সেই সাথে আমার একাডেমিক ও গবেষণা দক্ষতা আরও সমৃদ্ধ করবে বলে মনে করি। ব্যক্তিগতভাবে এটি আমার দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। বিশেষ করে টেকসই টেক্সটাইল নিয়ে জার্মানিতে গবেষণা করার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক ও দায়িত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আর সুযোগ পেয়ে আমি সত্যিই বেশ আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ। আমার শিক্ষকদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা, যারা আমাকে বিশ্বাস করে এত বড় একটি দায়িত্ব এবং বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দিয়েছেন।
এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. উম্মুল খায়ের ফাতেমা বলেন, আমাদের বিভাগটি তুলনামূলক নতুন। আমাদের টেক্সটাইল সেক্টরের জন্য ফিউচার রেডি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার তৈরি করার লক্ষ্যে আমরা এমএসসি ইন সাস্টেনিবিলিটি ইন টেক্সটাইলস প্রোগ্রামটি চালু করেছি। আমাদের এক্সচেঞ্জ সেমিস্টার প্রোগ্রামের কারিকুলাম ডিজাইনে ইন্ডাস্ট্রি সংযোগ ও গ্লোবাল প্রতিযোগিতার সক্ষমতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে আমাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করছে জার্মানির হফ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ২০২৪ সালে বুটেক্সের সঙ্গে হফ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। শিক্ষার্থীদের বিদেশে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে আমরা সুপারভাইজার নিয়োগসহ সকল ধরনের প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করি। এবছর আবেদনকারীর মধ্য থেকে অ্যাকাডেমিক ফলাফল ও ভবিষ্যৎ জব সাপোর্টের ভিত্তিতে ৩ জনকে স্কলারশিপ প্রদান করা হয়েছে।
BUTEX-GIZ-KiK প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দিন শায়ক বলেন, হফ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে এই এক্সচেঞ্জ সেমিস্টার প্রোগ্রামটি বুটেক্স থেকে প্রথমবারের মতো বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এর মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক শিক্ষাব্যবস্থা, গবেষণা পরিবেশ এবং শিল্পসংযোগের বাস্তব অভিজ্ঞতার সাথে পরিচিত করা। এই প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা উন্নত ল্যাব সুবিধা, আধুনিক টেক্সটাইল প্রযুক্তি এবং ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া সহযোগিতার কার্যকর মডেল প্রত্যক্ষভাবে দেখতে পারবে, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দেশে ফিরে তারা অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা স্থানীয় শিল্প ও শিক্ষাক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে পারবে, এটিই এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় সুবিধা।
বুটেক্সের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, বুটেক্সে প্রথমবারের মতো বুটেক্সের সাথে জার্মানির হফ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমঝোতার চুক্তির এবং BUTEX-GIZ-KiK প্রকল্পের স্কলারশিপের আওতায় তিনজন শিক্ষার্থী তাদের তৃতীয় সেমিস্টারের থিসিস করার সুযোগ পাচ্ছে, এটি আমাদের জন্য আনন্দ ও গর্বের বিষয়। আমি তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যত কামনা করি।
আমাদের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা লাভের পথ সমৃদ্ধ করতে আগামীতে জাপান, চীন প্রভৃতি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা আছে।