যবিপ্রবি প্রশাসনকে ইউজিসির চিঠি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) প্রশাসনকে চিঠি পাঠিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। তবে বিষয়টি অমূলক দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সেইসাথে ‘বিতর্কিত’ সাবেক এক শিক্ষার্থীর এমন চিঠি আমলে নেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, যবিপ্রবি প্রশাসন জবাবদিহি ও সচ্ছলতার সাথে কাজ করছে। যেকোন গঠনমূলক অভিযোগ থাকলে তার জবাব দিতে প্রস্তুত। তবে সম্প্রতি একটা মহল ক্যাম্পাসে শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ নষ্ট করা, স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা ও বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার জন্য ইউজিসি বরাবর চিঠি দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য ড. মো. আলতাফ হোসেন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ইউসিজির চিঠির বিষয়ে রিজেন্ট বোর্ডে আলোচনা হয়েছে। নিয়োগে কোনো অনিয়ম হয়নি এই বিষয়ে বোর্ডের সদস্যরা একমত। এর আগে যখন নিয়োগগুলোর চুড়ান্ত অনুমোদন হয়, সেসময় রিজেন্ট বোর্ডের কোনো সদস্য ‘নোট অফ ডিসেন্ট’ দেননি। বর্তমান রিজেন্ট বোর্ড সকল বিষয় স্বচ্ছতার সাথে চুড়ান্ত অনুমোদন দিচ্ছে। কোনো বিষয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।
ইউজিসির চিঠিতে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটা নিয়োগে তিন স্তরে যাচাই-বাছাই করা হয়। শিক্ষক নিয়োগের আবেদনগুলো বাছাইয়ের জন্য বিভাগীয় প্লানিং কমিটি হয়। কমিটি প্রার্থীদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে। যাদের কাগজপত্র ঠিক থাকে কেবল তাদেরই প্রবেশপ্রত্র ইস্যু করা হয়। পরের ধাপে নিয়োগ বোর্ডের সদস্যরা লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থীদের মেধা বাছাই করেন। সেখানে যে সব প্রার্থী অধিকতর যোগ্য বলে বিবেচিত হন তাদেরকে চুড়ান্ত নিয়োগের জন্য রিজেন্ট বোর্ড বরাবর সুপারিশ করে নিয়োগ বোর্ড। সবশেষে রিজেন্ট বোর্ড প্রার্থীদের সকল বিষয় পর্যালোচনা করে চুড়ান্ত অনুমোদন দেন। এই ক্ষেত্রে নিয়োগে অনিয়মের কোন সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
ইউসিজি থেকে যবিপ্রবি প্রশাসনকে পাঠানো চিঠি সংবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক গ্রুপে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে। ইউজিসিতে অনিয়মের অভিযোগ করা সাবেক ওই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যহত করছেন বলে উল্লেখ করেন তারা। এছাড়াও ওই শিক্ষার্থীকে মাদকসেবী হিসেবেও তারা আখ্যা দেন। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের হাতে এসেছে।
এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে রেহনুমা খানম নামের এক শিক্ষার্থী লিখেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল নিয়োগ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী সুষ্ঠু পরীক্ষা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সম্পন্ন হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৮/১০ জন যবিপ্রবিয়ান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। আমাদের সকলের দাবি ছিল যে যবিপ্রবিয়ানদের অগ্রাধিকার দেওয়া। এই ক্ষেত্রে কোন অনিয়মের মতো ঘটনা পাইনি। বরং একটি মহলের স্বার্থ হাসিল না হওয়ায় অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে মারুফ হোসেন সুকর্ণ নামের বিতর্কিত সাবেক শিক্ষার্থী ইউজিসিতে অমূলক ও মিথ্যা অভিযোগ করেছে। তাদের উদেশ্য প্রশাসনকে চাপে রেখে টেন্ডার, নিয়োগ বাণিজ্যসহ ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করা। প্রয়োজনে এই চিঠির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা ইউজিসিতে চিঠি দেবে।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, মারুফ হোসেন সুকর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। তার বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তার মাদক সেবনের ভিডিও ভাইরালও হয়েছিল। সে ইউজিসিতে যে অভিযোগ করেছে তা সম্পূর্ণ অমূলক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার সাথে করা হচ্ছে। তবুও একটি মহল বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। যে বিষয়ে অভিযোগগুলো করা হয়েছে সেগুলো সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক। ইউজিসির চিঠির জবাবে আমরা সবকিছু তুলে ধরব।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি যবিপ্রবির ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইপিই) বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মারুফ হাসান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিভিন্ন অনিয়ম সংক্রান্ত মোট ৩০টি অভিযোগ ইউজিসির কাছে দাখিল করেন।
এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ৯ ফেব্রুয়ারি যবিপ্রবি প্রশাসনকে ইউজিসির ম্যানেজমেন্ট বিভাগ (পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে অতিরিক্ত পরিচালক গোলাম মোস্তফা স্বাক্ষরিত একটি চিঠি দেওয়া হয়। এতে যবিপ্রবি রেজিস্ট্রারের নিকট পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিটি অভিযোগের বিষয়ে দফাওয়ারি জবাব পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।