২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২:০২

নারীঘটিত কারণে পাবিপ্রবিতে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১

ছাত্রদলের দুই গ্রুপে মারামারি  © টিডিসি সম্পাদিত

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রদলের দুই গ্রুপে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন আহত হয়েছেন। আহতের নাম অমিত কবিরাজ। তিনি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

জানা যায়, আজ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে নারীঘটিত বিষয় নিয়ে প্রথমে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অমিত কবিরাজ ও মেহেদীর মধ্যে কথা কাটাকাটির সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে দুপুর ১টার দিকে এই বিষয়কে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই গ্রুপ ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে।

এ সময় অমিত কবিরাজের পক্ষ নেয় ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক মো. রুমেল, ফয়সাল, রাসেল এবং অভিযুক্ত মেহেদীর পক্ষ নেয় ইমরান, মেহেদীসহ আরও অনেকে।

মারামারির এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদুল হক ও প্রক্টর কামরুজ্জামান খান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। তারপর আহত শিক্ষার্থীকে পাবনা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

অমিত কবিরাজ জানান, রাজনৈতিক ক্ষমতার বলে মেহেদী আমাকে আঘাত করেছে। সে আমার ওপর মেয়েঘটিত মিথ্যা দোষারোপ করেছে। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের যে ভাই এসেছেন, তিনি আমার জেলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক।

এ সময় অভিযুক্ত মেহেদীর সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

পাবনা সদর হাসপাতালের ডাক্তার মো. পলাশ বলেন, এক্স-রেতে আঙুলে ফ্র্যাকচার দেখা গেছে। সেটি প্লাস্টার করলেই হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো: কামরুজ্জামান খান বলেন, তারা নিজেদের মধ্যে হাতাহাতি করেছে। আমি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে গিয়েছিলাম। পরে তাদের মীমাংসা করে দেওয়া হয়েছে।

প্রেস রিলিজে ছাত্রদল যে ব্যাখ্যা দিল 
এই মারামারির ঘটনায় জড়িতরা পাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের কেউ নয় দাবি করে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে শাখা ছাত্রদল। সন্ধ্যায় সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক ইনজামামুল হক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দুইজন শিক্ষার্থীর মধ্যে একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট কথা-কাটাকাটি ও সামান্য হাতাহাতির ঘটনাকে কিছু গণমাধ্যম ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হিসেবে প্রকাশ করেছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও আকস্মিক। এর সাথে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক বা রাজনৈতিক কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বরং ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত কোনো শিক্ষার্থীই পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে যুক্ত নয়। অথচ একটি সাধারণ ব্যক্তিগত ঘটনাকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি মুজাহিদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক কে এম তরিকুল ইসলাম বলেন, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার নীতিমালা অনুসরণ করে সংবাদ পরিবেশন করা গণমাধ্যমের নৈতিক দায়িত্ব। যাচাই-বাছাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুশৃঙ্খল ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।

তারা আরও বলেন, ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত কেউই পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাথে যুক্ত নয় এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে একটি সাধারণ ব্যক্তিগত ঘটনাকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়া হয়েছে।

তাই, প্রকাশিত ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল।