০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৩:৩৭

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ‘ফ্যাসিস্টদের’ তালিকা চাইলেন সেলিম ভূঁইয়া

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া  © টিডিসি ফটো

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা অধিদপ্তরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে দুর্নীতিবাজ ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একটি বস্তুনিষ্ঠ তালিকা চেয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ও শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া এমপি। তিনি বলেছেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ তালিকা দিলে বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সেলিম ভূঁইয়া বলেন, ‘আপনারা জানেন যে আওয়ামী ফেসিস্টরা এখনো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আছে, শিক্ষা অধিদপ্তরে আছে। আপনারা আমাকে তালিকা দিন, একেবারে যেটা তালিকা দিবেন সেই তালিকা বস্তুনিষ্ঠ হতে হবে। আপনি আমাকে দেন দেখি কে তাদেরকে মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরে রাখে।’

শিক্ষা খাতে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘এভাবে অনেকে বলেন অমুকে সেই, অমুকে সেই—এটা বললে হবে?’ জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সচিব পদায়নে ৩০০ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ নিয়েও কথা বলেন তিনি। সেলিম ভূঁইয়া বলেন, ‘অনেক অনলাইন মিডিয়া নিউজ করেছিল—৩০০ কোটি টাকার বিনিময়ে টেক্সটবুক বোর্ডের সচিব পদায়ন করা হয়েছে, যে সচিব আওয়ামী ফেসিস্টের সচিব ছিল। এই বিষয়ে আমরা আগামী ৮ তারিখ স্ট্যান্ডিং কমিটির সভায় আলোচনা করব। তথ্য থাকলে আমাদেরকে আরো দিবেন।’

এনসিটিবি ও শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘টেক্সটবুক বোর্ডে অনেক দুর্নীতিপরায়ণ লোক আছে, শিক্ষা অধিদপ্তরে অনেক দুর্নীতিপরায়ণ লোক আছে। শিক্ষকরা যেখানে সামান্য কয়টি টাকার জন্য তাদের দাবিটি মাত্র কয়টি টাকা সেটার জন্য আন্দোলন-সংগ্রামে কেন নামতো, নামার পিছনে তারাই জড়িত।’

নিম্নমানের পাঠ্যবই সরবরাহের অভিযোগে ২৫২ কোটি টাকা উৎকোচ নেওয়ার বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘নিম্নমানের বইয়ের কথা বলে ২৫২ কোটি টাকা এখান থেকে উৎকোচ নিয়েছে বলে পত্রিকায় নিউজ বেরিয়েছে, কিন্তু আমরা এটা আরো তদন্ত করে দেখতে চাই।’

এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তের কথা উল্লেখ করে সেলিম ভূঁইয়া বলেন, ‘দুদক এটার তদন্ত করতেছে, দুদক থেমে গেলেও শিক্ষক-কর্মচারী থামবে না। আপনারা আমাদের কাছে একবারে প্রমাণসহ দেন। দুর্নীতি-ঘুষের তো প্রমাণ সাধারণত রাখে না, কিন্তু আমরা বের করব।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য শেষে এসব কথা বলেন তিনি। এসময় সংগঠনটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।