২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫০

তিন গেজেটের একটি হয়েছে, বাকি দুটোর প্রজ্ঞাপন হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরাও অটোম্যাটিক পাওয়ার কথা

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পে স্কেল  © ফাইল ফটো

নবম পে স্কেল নিয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আবদুল মালেক বলেছেন, তিনটি গেজেটের মধ্যে একটির প্রকাশ হয়েছে। বাকি দুটির প্রজ্ঞাপন জারি হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন পে স্কেলের সুবিধা পাবেন।

তিনি বলেন, ১১ বছর পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে স্কেল হচ্ছে, যা ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। আমাদের তিনটি কমিশন- প্রতিরক্ষা, জুডিশিয়াল সার্ভিস ও জনপ্রশাসন। এর মধ্যে কেবল একটি কমিশনের গেজেট হয়েছে। এখনো দুটি বাকি রয়েছে। রাজস্ব খাতের সরাসরি কর্মচারী, প্রতিরক্ষা বাহিনী ও জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্যও আমরা আশা করছি, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বা মাঝামাঝি সময়ে সিদ্ধান্ত আসবে। তাদের প্রজ্ঞাপন জারি হলে বা নির্দেশনা দেওয়া হলে ফিক্সেশন শুরু হবে। তবে তাদের ফিক্সেশন এখনো শুরু হয়নি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন আবদুল মালেক। এমপিওভুক্ত শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নতুন পে স্কেল নিয়ে যোগাযোগ করে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানাচ্ছেন বলে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আবদুল মালেক। তিনি বলেন, ১১ বছর পর ঘোষিত নতুন পে স্কেলের সুবিধা সবাই যাতে একসঙ্গে পান, সে জন্য তারা বারবার দাবি জানিয়েছেন।

আবদুল মালেক বলেন, ‘আমাদের কাছে অনেকেই মেসেজ করে যোগাযোগ করেন। তারা বলেন, ভাই, আমরা কী অপরাধ করলাম? আমরা দেশের নিরাপত্তা দিই, বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত থাকি। তাহলে আমাদের প্রজ্ঞাপন হচ্ছে না কেন? আপনারা নতুন বেতন ভোগ করবেন, আর আমরা কী করব? এ নিয়ে আমরা কিন্তু অনেকবারই দাবি তুলেছি, দীর্ঘ ১১ বছর পর পে স্কেলের যে সুবিধা পাওয়া যাবে, তার যতটুকু সুফল ও সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, তা যেন আমরা সবাই একসঙ্গে উপভোগ করতে পারি।’

তিনি বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক, প্রতিরক্ষা বাহিনী ও জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করতে সরকারের কাছে দাবি জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ক্ষেত্রে তাদের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পে স্কেল নিয়ে আলাদা আন্দোলনের যৌক্তিকতা নেই বলে মনে করেন আবদুল মালেক। তিনি বলেন, অন্য দাবিগুলো নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পে স্কেলের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা তাদের অন্যান্য দাবি নিয়ে আন্দোলন করতে পারেন। পাশাপাশি পে স্কেলের জন্য আলাদা আন্দোলন করার এখন কোনো যৌক্তিকতা নেই। জুডিশিয়াল সার্ভিস ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রজ্ঞাপন হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত আসবে। কারণ, পে স্কেল তো সবার জন্যই। এখানে কেউ পাবেন, কেউ পাবেন না এমন সুযোগ নেই। কারও প্রজ্ঞাপন এক মাস পরেও জারি হলে ১ জুলাই ২০২৬ থেকেই তিনি এর সুবিধা পাবেন।’

প্রসঙ্গত, গত ১৭ সেপ্টেম্বর নবম বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশ করা হয়। এর আগে, ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় নবম জাতীয় পে স্কেল অনুমোদন করা হয়। নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে।

জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয় ২০ হাজার টাকা। আর প্রথম গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। নতুন কাঠামোয় প্রথম থেকে ১১তম গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতন দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২০তম গ্রেডে মূল বেতন বাড়বে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাতও কমিয়ে ১:১.৭৮ করা হয়।

নতুন কাঠামোয় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। একইসঙ্গে সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের জন্য মোবাইল ভাতার ব্যবস্থা রাখা হয়। নতুন পে-স্কেলের প্রভাব পড়বে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশনেও। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিট পেনশনপ্রাপ্তদের জন্য বিভিন্ন স্তরে বৃদ্ধির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।