১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪২

বেসিকের কারণে বাড়িভাড়া কমালেন, অথচ দেড় বছর পর ভাতা পাওয়ার আগেই ভাড়া বাড়বে

নবম জাতীয় পে স্কেল  © সংগৃহীত

নতুন পে স্কেলে বেসিক বেতন বাড়ার কারণে বাড়িভাড়া ভাতা কমানো হলেও তা কার্যকর হওয়ার আগেই বাসাভাড়া আরও বেড়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আব্দুল মালেক। তিনি বলেন, দেড় বছর পর বাড়িভাড়া ভাতা পাওয়ার সময় পর্যন্ত বাসাভাড়া ২ থেকে ৩ হাজার টাকা বেড়ে যেতে পারে। ফলে বেসিক বাড়লেও বাড়িভাড়া ভাতা কমানোর কারণে সরকারি কর্মচারীরা প্রকৃত অর্থে লাভবান হবেন না, বরং ক্ষতির দিকেই থাকবেন।

সম্প্রতি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

আব্দুল মালেক বলেন, কয়েকদিন আগে সচিব পর্যায়ের সুপারিশ কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর করা পে স্কেলের সুপারিশসংক্রান্ত কিছু কাগজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এসব নথি গোপনীয় এবং প্রকাশ্যে আসার কথা নয়। কীভাবে এবং কেন এত গোপনীয় একটি নথি সাধারণ মানুষের সামনে চলে এলো, তা তারা জানেন না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘ওইখানে আমরা যে বিষয়গুলো দেখতে পেলাম, সেখানে দেখলাম বাড়িভাড়া আগে ঢাকা শহরে ছিল ৬৫ শতাংশ। ২০তম গ্রেডের নিচের দিকে বেসিকের ৬৫ শতাংশ ছিল। সেটাকে কমিয়ে মনে হয় ৬০ শতাংশ করা হয়েছে। সিটি করপোরেশন এলাকায় কমানো হয়েছে। আমি যতটুকু জানি, খুব সম্ভবত ৫৫ শতাংশ মনে হয় বাড়িভাড়া বেসিকের।’

নবম গ্রেডের বাড়িভাড়া ভাতাও আরও কমানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। নিজের উদাহরণ দিয়ে আব্দুল মালেক বলেন, ‘নবম গ্রেডটা আরও কম। নবম গ্রেডে আমি যেটা আমারটা দেখলাম, ৪৫। আমি এখন পাচ্ছি ৫০ শতাংশ। যেটা ভাইরাল হয়েছে, সেখানে এখন সেটা সঠিক কি না, সেটাও আমরা জানি না। বাট ওইটার রেফারেন্সেই কিন্তু এখন সবাই দেখলাম, কোথাও ৫ শতাংশ, কোথাও ১০ শতাংশ কমানো হয়েছে।’

ঢাকার বাসাভাড়ার বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০১৫ সালে সর্বশেষ পে স্কেল হওয়ার পর ২০২০ সাল থেকে তারা ঢাকার বাসাভাড়ার ঊর্ধ্বগতি দেখছেন। তার ভাষ্য, ২০২০ সালেই ঢাকায় দুই কক্ষের একটি বাসা ভাড়া নিতে সর্বনিম্ন ১২ হাজার টাকা প্রয়োজন হতো। এর নিচে বাসা পাওয়া যেত না। ২০২০ সালের পর থেকে আমরা দেখতেছি, ঢাকা শহরে একেবারে দুই রুমের যদি একটা বাসা নেওয়া হয়, ১২ হাজার টাকার নিচে কোথাও বাসা ভাড়া নাই। এটা সর্বনিম্ন। সর্বনিম্ন একেবারে নিম্ন পর্যায়ে।’

আব্দুল মালেকের মতে, শুধু বাসাভাড়াই নয়, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির বিলও বাসাভাড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি বলেন, ‘এই বাসাভাড়ার ওপরেই বেসিস করে কিন্তু গ্যাস বিল, বিদ্যুৎ বিল এগুলো ডিপেন্ড করে, পানির বিল এটার ওপরেই করে যুক্ত হয়। তো ১২ হাজার টাকার নিচে কিন্তু সেই ২০২০ সালেই বাসাভাড়া ঢাকা শহরে নাই। ঢাকার এই পরিস্থিতির সঙ্গে দেশের অন্যান্য এলাকার বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। তার হিসাব অনুযায়ী, ২০২০ সালে যেখানে একটি বাসার ভাড়া ১২ হাজার টাকা ছিল, বর্তমানে সেটি আরও বেড়েছে। নতুন বেসিক ২০ হাজার টাকা ধরে বাড়িভাড়া ৫৫ শতাংশ হলে ভাতা দাঁড়ায় প্রায় ১১ হাজার টাকা বা সাড়ে ১১ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকার কাছাকাছি।

এ প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘তাহলে এই বাড়িভাড়াটা পাবো কবে? ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে।’ অর্থাৎ নতুন ব্যবস্থায় বাড়িভাড়া ভাতা পাওয়ার জন্য দেড় বছর অপেক্ষা করতে হবে। গত দুই বছর ধরে তার বাড়িওয়ালা ভাড়া বাড়ানোর কথা বললেও তিনি পে স্কেলের আশায় তা বাড়াতে দেননি। তিনি বাড়িওয়ালাকে বলেছিলেন, বেতন বৃদ্ধির আন্দোলন চলছে; পে স্কেল হলে সবার ভাড়া বাড়ানোর সঙ্গে তার ভাড়াও বাড়ানো হবে। তখন বাড়িওয়ালা বিষয়টি মেনে নিয়ে পে স্কেল হওয়ার জন্য অপেক্ষা করেন।

তিনি বলেন, ‘পে স্কেলের যেই ঘোষণা হইছে, ঠিক পরের দিনেই বাড়িওয়ালা আমাকে ডাকছে। নিয়ে সুন্দর করে এক কাপ রং চা খাওয়াইলো। রং চা খাওয়া বলছে যে, মালেক ভাই, বাসা কিন্তু ভাড়া আপনার এখন দিতে হবে, আপনার তো বেতন ডাবল হয়ে গেছে।’ এরপর বাড়িওয়ালাকে নিজের বাস্তব পরিস্থিতির কথা জানানোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তখন আমি ভাবলাম, বললাম যে ভাই, বেতন আমার ডাবল হয়েছে মুখে মুখে কথা, বেতন ডাবল হয়েছে, বাস্তবে আমি এখনো হাতে পাইনি। আর আমার যে বাড়িভাড়া সেটা পাবো আমি আরও দেড় বছর পরে। তাহলে আপনি ওই দেড় বছর অপেক্ষা করেন।’

তবে বাড়িওয়ালা অপেক্ষা করতে রাজি হননি উল্লেখ করে আব্দুল মালেক বলেন, ‘কয় ভাই, আপনি বাসাটা ছেড়ে দেন। এর উপরে তো আর আমার আর কিছু বলার নাই। কারণ উনি আমার জন্য তো সারাজীবন অপেক্ষা করবে না। ঠিক এই একই জিনিসটা সবার ক্ষেত্রে, প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই হচ্ছে।’ তিনি বলেন, বর্তমানে বাড়িভাড়া ভাতা ৫ বা ১০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হলে সেটি কার্যকর হবে দেড় বছর পর। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে বাসাভাড়া আরও বেড়ে যাবে। তার হিসাবে, ১২ হাজার টাকার বাসাভাড়া অন্তত ১৫ হাজার টাকা হতে পারে। অর্থাৎ দুই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আব্দুল মালেক বলেন, ‘কিন্তু আপনি আমাকে দিলেন ১২ হাজার বা ১১ হাজার, তাই না? মানে আমাকে বেতন যা দিলেন, ভাতা যা দিলেন, তার থেকে আমি নিচেই থাকলাম। তাহলে আমি দুই টাকা লাভবান হবো কি, আমি ক্ষতির দিকেই থাকলাম।’