এমপিওভুক্তির ১০ বছরে প্রথম উচ্চতর গ্রেড চান মাধ্যমিকের শিক্ষকরা
মাদ্রাসা শিক্ষকদের মতো মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির তারিখ থেকে ১০ বছর পূর্তিতে প্রথম উচ্চতর গ্রেড চেয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আবেদন জানিয়েছেন বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা। আজ বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) পেশাজীবী সংগঠন বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী ফোরামের (বাবেশিকফো) উদ্যোগে এই আবেদন জানানো হয়। বাবেশিকফো কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব মো. তোফায়েল সরকার আবেদনপত্রে সই করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বরাবর দেওয়া আবেদনপত্রে বলা হয়েছে, শিক্ষাবান্ধব সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে। তবে আমরা অত্যন্ত গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে এমপিও নীতিমালার কিছু অসংগতির কারণে সমমানের দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষক সমাজের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট বৈষম্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এতে বলা হয়, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীগণ এমপিওভুক্তির তারিখ থেকে ১০ বছর পূর্তিতে প্রথম উচ্চতর গ্রেড এবং পরবর্তী ৬ বছর পর দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্ত হন। অপরদিকে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালার বিধান অনুযায়ী, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকগণ এমপিওভুক্তির তারিখ থেকে প্রথম উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির ন্যায়সংগত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
আবেদনপত্রে বলা হয়েছে, একই যোগ্যতা ও সমান দায়িত্ব পালন করা সত্ত্বেও দুই অধিদপ্তরের শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেড প্রদানে এমন নীতিগত পার্থক্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের সমতা ও ন্যায়বিচারের মূল চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক। এই বিদ্যমান বৈষম্যের কারণে মাধ্যমিক স্তরের সাধারণ শিক্ষক সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ, হতাশা ও পেশাগত অসন্তোষ বিরাজ করছে, যা মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণের অন্তরায়।
বাবেশিকফোর আবেদনপত্রে আরও বলা হয়, মানুষ গড়ার কারিগর মাধ্যমিক স্তরের সাধারণ শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা ও মানসিক প্রেরণা অক্ষুণ্ন রাখতে এবং শিক্ষক সমাজের মধ্যকার এই বৈষম্য দূরীকরণে মাদ্রাসা শিক্ষকদের ন্যায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও এমপিওভুক্তির তারিখ থেকে ১০ বছর পূর্তিতে প্রথম উচ্চতর গ্রেড প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে আপনার সুমর্জি ও মহানুভবতা প্রার্থনা করছি।