১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫১

পে কমিশনের সুপারিশে ২০ হাজার টাকা কাটছাঁট মানবে না সাধারণ কর্মচারীরা

নবম জাতীয় পে স্কেল  © টিডিসি সম্পাদিত

নবম জাতীয় পে স্কেলে সচিব কমিটির সুপারিশ করা সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা বেতনও কাটছাঁট করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। বরং বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে সর্বনিম্ন বেতন আরও বাড়িয়ে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। 

শনিবার (১৫ আগস্ট) সংগঠনের সভাপতি আব্দুল মালেক ও মহাসচিব আশিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়। 

বিবৃতিতে বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী সচিব কমিটি নিম্ন গ্রেডে ১০০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। সে হিসাবে ৮ হাজার ২৫০ টাকার ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি হলে বেতন দাঁড়ায় ১৬ হাজার ৫০০ টাকা। এই সুপারিশ কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি করছে। অতীতের বিভিন্ন পে স্কেলে ১০ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীদের জন্য ১৪০ শতাংশ বা তারও বেশি বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দীর্ঘ ১১ বছর পর বহু আন্দোলন-সংগ্রাম ও কর্মচারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নবম পে স্কেল হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে দ্রব্যমূল্যও প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বেতন বাড়ার আগেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও হতাশা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা বর্তমান দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে কোনোভাবেই তাল মিলিয়ে চলতে পারছেন না বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। নবম পে স্কেলে যে পরিমাণ বেতন বাড়বে, তার চেয়ে বহু গুণ বেশি দ্রব্যমূল্য এরই মধ্যে বেড়ে গেছে। ফলে বিষয়টি গুরুতর আকার ধারণ করেছে। 

আরও পড়ুন: সরকারি বেতন ১০০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের অপেক্ষা

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০২০ ও ২০২৫ সালে দুটি পে স্কেল পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত একটিও বাস্তবায়ন হয়নি। জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫-এর মতবিনিময় সভায় কর্মচারীদের বর্তমান অবস্থা এবং দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে তাদের আয়ের পার্থক্যের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল। সেখানে দুটি পে স্কেলের সমন্বয় করে সর্বনিম্ন ৩৫ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণের দাবি জানানো হয়। তবে সেই দাবির তুলনায় কমিয়ে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা বেতনের সুপারিশ করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে ১ : ৪ অনুপাতে সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা করার কথা বলা হলেও তা বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার সুপারিশ করা হয়েছে। 

সংগঠনটি উল্লেখ করেন, এতে বৈষম্যের আরেকটি ধাপ তৈরি হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, সচিব পর্যায়ের সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি যদি সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকার সুপারিশও কাটছাঁট করে, তাহলে নবম পে স্কেলে বেতন বৃদ্ধি ও দ্রব্যমূল্যের বর্তমান বৃদ্ধির মধ্যে কোনোভাবেই সামঞ্জস্য থাকবে না। এতে সাধারণ কর্মচারীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এর ফলে কর্মচারীদের মধ্যে অস্থিরতা, হতাশা ও অভাব আরও থেকে যাবে বলেও বিবৃতিতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। 

সাধারণ কর্মচারীদের পক্ষ থেকে সংগঠনটির নেতারা দাবি করেছেন, সচিব কমিটি ও মন্ত্রিসভার অনুমোদনের মাধ্যমে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকার সুপারিশ আরও কিছুটা বাড়ানো হোক। বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন নির্ধারণ করে দ্রুত গেজেট প্রকাশেরও দাবি জানিয়েছেন তারা। বিবৃতিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি কামনা করা হয়। সংগঠনটির নেতারা নিজেদের ‘কর্মচারীবান্ধব মানবতার ফেরিওয়ালা’ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বাজারমূল্যের প্রতিনিয়ত বৃদ্ধির চাপ থেকে সরকারি কর্মচারীদের মুক্তি দিতে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি।