০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:৩৯

তড়িঘড়ি করে প্রস্তাবিত শিক্ষা আইন অনুমোদনে উদ্বেগ শিক্ষা অধিকার সংসদের

শিক্ষা অধিকার সংসদের লোগো  © সংগৃহীত

প্রস্তাবিত শিক্ষা আইন-২০২৬ দ্রুত অনুমোদনের উদ্যোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শিক্ষা অধিকার সংসদ। সংগঠনটি জানায়, নতুন সরকার গঠনের প্রাক্কালে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সীমিত মেয়াদে দায়িত্ব পালনের সময় কোনো ধরনের জনসম্পৃক্ততা, অংশীজন পরামর্শ ও জাতীয় ঐকমত্য ছাড়া এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন সমীচীন নয়।

আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সংগঠনটির আহ্বায়ক অধ্যাপক নিয়াজ আসাদুল্লাহ স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে শিক্ষা অধিকার সংসদ জানায়, শিক্ষা আইন একটি দীর্ঘমেয়াদি ও বহুমাত্রিক প্রভাবসম্পন্ন আইন। এ ধরনের আইন প্রণয়নে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের অংশগ্রহণ, প্রমাণভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং বিস্তৃত নাগরিক আলোচনার সুযোগ থাকা আবশ্যক। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রস্তাবিত খসড়া আইনটি অনুমোদন পেলে গণতান্ত্রিক আলোচনা ও অংশগ্রহণের সেই সুযোগ নিশ্চিত হবে না বলে সংগঠনটি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, খসড়া শিক্ষা আইনে মূলত বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থার বিষয়গুলোই প্রাধান্য পেয়েছে। ভবিষ্যতমুখী সংস্কার, কাঠামোগত পরিবর্তন ও গুণগত উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক দিকনির্দেশনার সুস্পষ্ট প্রতিফলন এতে অনুপস্থিত। পাশাপাশি, যেসব জরুরি ও নীতিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আইন দ্বারা নির্ধারিত হওয়া প্রয়োজন, সেগুলোর অনেকটাই বিধিমালার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, যা আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

শিক্ষা অধিকার সংসদ খসড়া আইনে কিছু সংজ্ঞাগত অস্পষ্টতা, শাসন কাঠামোর অনির্দিষ্টতা এবং বাস্তবায়নসংক্রান্ত দিকনির্দেশনার ঘাটতির কথাও উল্লেখ করেছে। এসব দুর্বলতা ভবিষ্যতে প্রশাসনিক জটিলতা ও নীতিগত সংকট তৈরি করতে পারে বলে তারা মনে করে।

সংগঠনটির মতে, শিক্ষা আইন প্রণয়নের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত বিদ্যমান ও প্রচলিত নীতিমালা এবং প্রশাসনিক কাঠামোর দুর্বলতা চিহ্নিত করে সেগুলোর কার্যকর সমাধানের জন্য বাধ্যতামূলক আইনি ধারা সংযোজন করা। একই সঙ্গে, দীর্ঘমেয়াদে গুণগত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা বিস্তারে যেসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, সেগুলো আইন দ্বারা সুরক্ষিত করা প্রয়োজন, যাতে রাষ্ট্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাস্তবায়নে বাধ্য থাকে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, জুলাই ২০২৪–এর পর একটি স্বাধীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্থায়ী শিক্ষা সংস্কার কমিশনের মাধ্যমে শিক্ষা খাতের সামগ্রিক সংস্কার বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা ও পর্যালোচনার সুযোগ সৃষ্টি হয় নি। এ অবস্থায় শিক্ষা অধিকার সংসদ প্রস্তাব করছে, শিক্ষা আইন, ২০২৬ বর্তমান পর্যায়ে অনুমোদন না দিয়ে বিষয়টি পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য রেখে দেওয়া হোক। এতে সকল অংশীজনের অংশগ্রহণে একটি শক্তিশালী, টেকসই ও সর্বজনগ্রাহ্য শিক্ষা আইন প্রণয়ন সম্ভব হবে।

শিক্ষা অধিকার সংসদের আহ্বায়ক অধ্যাপক এম. নিয়াজ আসাদুল্লাহ বিবৃতিতে বলেন, ‘গত দেড় বছর ধরে রাষ্ট্র সংস্কারের আলোচনায় শিক্ষা খাত সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত। তড়িঘড়ি করে শিক্ষা আইন প্রণয়ন সামগ্রিকভাবে দুর্বল ও সীমাবদ্ধ হবে। শিক্ষা সংস্কার সময়, সংলাপ ও ঐকমত্যের মধ্য দিয়ে হওয়াই রাষ্ট্র ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সর্বোত্তম পথ।’