২৬ মার্চ ২০২৬, ১৮:২৯

নতুন পরিচয়ে ফিরেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা, ব্যানারে ‘প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’

‘প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’-এর ব্যানারে নানা কার্যক্রম  © টিডিসি সম্পাদিত

সক্রিয় হচ্ছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নিজেদের ‘নির্যাতিত-নিপীড়িত শিক্ষক’ হিসেবে দাবি করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ শতাধিক আওয়ামীপন্থী শিক্ষক ও শিক্ষক নেতা ‘বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ ব্যানারে নতুন করে প্ল্যাটফর্ম সাজাচ্ছেন। অনলাইনে নিয়মিত সভা তো বটেই, পাশাপাশি জাতীয় প্রেসক্লাবে পর্যন্ত সশরীরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তারা। এছাড়া বিভিন্ন জাতীয় দিবসেও একই ব্যানারে কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন তারা। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের ছাত্র-শিক্ষকরা বলছেন, যেকোনো ব্যানার বা নামে স্বৈরাচারী আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনরুত্থান ঠেকাতে তারা সচেষ্ট থাকবেন। তাদের অভিযোগ, অনলাইন ও অফলাইনে বিভিন্ন কৌশলে এবং ভিন্ন ভিন্ন ব্যানারে ফের সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে এসব গোষ্ঠী। বিশেষ করে ‘সুশীল সমাজ’ বা ‘প্রগতিশীল শিক্ষক’ পরিচয়ের আড়ালে তারা পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।

ছাত্র-শিক্ষকদের মতে, কোনোভাবেই তাদের পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে এ ধরনের কার্যক্রমে সরকারের দায় রয়েছে বলেও তারা মনে করেন। ভবিষ্যতে যেন এমন পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেও আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

জানা গেছে, দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সাদা দল, নীল দল, হলুদ দল, গোলাপী দল প্রভৃতি নামে বিএনপি-আওয়ামীলীগ ও বামপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন রয়েছে। তারা শিক্ষক সমিতি থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ে অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে থাকেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীলদল শিক্ষক সমিতি থেকে শুরু করে সব নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় লাভ করত। এছাড়া এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল সক্রিয় ছিল। এক সময়ে বামপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন গোলাপী দল সক্রিয় থাকলে বছর দশেক আগ থেকে তারা সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় রয়েছে। তবে বছর তিনেক আগে ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক’ নামে বামপন্থী শিক্ষকদের একটি প্লাটফর্ম গড়ে উঠে। সর্বশেষ জুলাই আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাদা দলের শিক্ষকদের পাশাপাশি তাদেরও সক্রিয় ভূমিকা দেখা গেছে।

অপরদিকে, জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরোধিতার ভূমিকা ছিলেন নীল দলের শিক্ষকরা। শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নয়, সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারীদের সরাসরি হুমকি থেকে শুরু করে গ্রেপ্তার-নির্যাতনেও তাদের ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মত। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের সপ্তাহ আগে ২৯ জুলাই ঢাকা শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. নিজামুল হক ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জিনাত হুদার নেতৃত্বে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী একদল শিক্ষক ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমাতে সচিবালয়ে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের সঙ্গে বৈঠকেও বসেছিলেন।

২০২৪ সালের ২৯ জুলাই সচিবালয়ে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী নওফেলের সঙ্গে বৈঠক

৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার নেতাদের বিচার কার্যসম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। এ সময়ে জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরোধিতার ভূমিকায় থাকা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৫০০ শতাধিক শিক্ষক তোপের মুখে পড়েন। তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার থেকে শুরু করে অপরাধের ধরণ দেখে স্থায়ী বহিষ্কারও করা হয়েছে। অপরদিকে, আওয়ামী লীগের মতো শিক্ষকদেরও সশরীতে তেমন কোনো কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়নি। তবে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, তারা অনলাইনে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং বিভিন্ন ইস্যুতে সভা করছেন।

তথ্য মতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও শতাধিক শিক্ষককে জুলাইয়ের বিরোধিতার কারণে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজ থেকে সম্পূর্ণভাবে বিরত রাখা হয়েছে। অনেককে শাস্তি দিতে কমিটি করে তদন্ত চলমান রয়েছে। এর একজন শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) ইনস্টিটিউটের নীলদলের অধ্যাপক ও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক উপাচার্য ড. এম ওয়াহিদুজ্জামান। তার নেতৃত্বেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে তোপের মুখে পড়ে শিক্ষকদের নিয়ে এই প্লাটফর্‌মটি গঠিত হয়েছে। এটির সভাপতির দায়িত্ব রয়েছেন বলে তিনি নিজেই দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের কাছে স্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, নীল দল হচ্ছে শিক্ষকদের সংগঠন। এটির সংগঠন না, একটি প্ল্যাটফর্‌ম। শুধু আওয়ামীপন্থী না মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও দেশের সংবিধানকে বিশ্বাস করে এমন শিক্ষকদের অংশগ্রহণে এটির যাত্রা হয়েছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে এটির যাত্রা হয়।

‘এই সময়ে অন্তত ৫০০ শতাধিক শিক্ষক দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্যাতিত-নিপীড়নের শিকার হছেন। বর্তমানে সংখ্যাটি ৩০০ থেকে ৪০০ হবে। আমরা তাদের খোঁজ-খবর নিচ্ছি। আপনারা জানেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা চরম সংকটে। ছাত্ররা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বর্তমান সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি পেশাজীবী হিসেবে। গত ১ মার্চ সংবাদ সম্মেলনও করেছি। আমরা আগামীকে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করবো।’

আরও পড়ুন: আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার-ছাত্রলীগের ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দেওয়াসহ ১৪ দফা

এই প্ল্যাটফর্মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত অর্ধশত শিক্ষক সক্রিয় রয়েছে। এরমধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীলদলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আ ক ম জামালউদ্দিন; সাম্প্রতিক সময়ে যিনি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় কারাগারে রয়েছেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও নীল দলের শিক্ষক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান, অধ্যাপক ড. তৌহিদা রশীদ, অধ্যাপক ড. সুরাইয়া আক্তার, অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান, অধ্যাপক ড. শবনম জাহান, অধ্যাপক ড. আজমল হোসেন ভূইয়া, অধ্যাপক ড. জামিলা এ চৌধূরী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. কামাল উদ্দিন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দুলাল চন্দ্রের, জাহাঙ্গীরনগরের  অধ্যাপক ড. জাবুন্নেসা জেবা প্রমুখ।

জানা গেছে, আত্মপ্রকাশের পর গতবছর জুলাই আন্দোলনের পর বহিষ্কার হওয়া শিক্ষকদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরাতে গণমাধ্যমে বিবৃতি দিত প্লাটফর্‌মটি। সর্বশেষ গতবছরের ১৭ নভেম্বর, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিলে ‘১০০১ জন’ শিক্ষক বিবৃতি দেন। এরপর আলোচনায় আসে প্ল্যাটফর্মটি।

বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মাহবুব আলম প্রদীপ স্বাক্ষরিত এই বিবৃতিতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০১ জন স্বাক্ষর করেছেন বলে উল্লেখ করা হলেও, ৬৩০ জন শিক্ষকের নাম যুক্ত করা হয়েছিল। তবে বিবৃতিতে কোনো স্বাক্ষর ছিল না। অপরদিকে, এখানে নাম থাকা অনেক শিক্ষক বলছিলেন, তারা এই বিবৃতির সঙ্গে জড়িত নন। তাদের নাম দেওয়া হয়েছে অনুমতি ছাড়াই। এ নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছেন তারা। আবার অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাসও দিয়েছিলেন তখন।

আরও পড়ুন: বিবৃতি পাঠানো হয়েছে অস্ট্রেলিয়া থেকে, অনেকের নাম যুক্ত করা হয়েছে ‘অনুমতি ছাড়াই’

প্ল্যাটফর্মটির নেতৃত্বে থাকা ড. এম ওয়াহিদুজ্জামান স্বীকার করেছেন, এসব বিবৃতি অস্ট্রেলিয়া থেকে ড. মাহবুব আলম প্রদীপ গণমাধ্যমে পাঠাতেন। এদিকে ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের পর সশরীরে কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেছে এসব শিক্ষকদের।

গত ১ মার্চ জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষাঙ্গণে শান্তি, শৃঙ্খলা ও ন্যায়ভিত্তিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবিতে বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকারের কাছে ১৪ দফা দাবি তুলে ধরেছেন তারা। এসময় আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার-নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দেওয়াসহ ১৪টি দাবি জানানো হয়।

এদিকে, ‘প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে বিশ্ববিদ্যালয়টির ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন কিছু শিক্ষককে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে সংগঠিত করছেন। নীলদলের এই অধ্যাপকের নেতৃত্বে শতাধিক শিক্ষককে নিয়ে এ গ্রুপ গড়ে উঠেছে; যেখানে নীল দলের অনেক সিনিয়র শিক্ষকও রয়েছেন বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।

তবে ‘বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’-এর সভাপতি অধ্যাপক অহিদুজ্জামান বলেন, ফেসবুক-মেসেঞ্জারে হয়তো ওরা আছে। তবে আমাদের সঙ্গে না। আমরা কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা কমিটি দেব না। কেন্দ্রীয়ভাবে আমরা প্ল্যাটফর্মটি পরিচালিত করব।

জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমাদের অসাম্প্রদায়িক, প্রগতিশীল শিক্ষকদের একটি ফোরাম আছে। এটা কোনো আনুষ্ঠানিক ফোরাম না, যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে, অসাম্প্রদায়িক চেতনা লালন করে এমন শিক্ষকদের নিয়ে প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ নামে একটা ফোরাম আছে। এটা শুধুমাত্র একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, কোনো সংগঠন না। কিছুদিন পরে জামাল উদ্দীন সাহেবরা পাল্টা একটা করেছে গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ। ওরা এটা করার কারণে আমরা এটার মধ্যে আর কোনো একটিভিটিস রাখিনি। আমরা শুধু যোগাযোগের জন্য এটা রেখেছি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ফ্যাসিস্টের দোসররা ৫ আগস্টের পর থেকে একটিভ বাই নেমে নানাভাবে ফেরার চেষ্টা করছে, এরপর আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ হওয়ার পর ব্যাকফুটে চলে যায় তারা।এরমধ্যে শিক্ষকরা বাই পাসন আসার চেষ্টা করছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট থেকে শুরু করে ছাত্ররা বিক্ষোভ করলে তাদেরকে ব্যাকফুটে চলে যেতে হয়।

‘‘এখন যেহেতু নীল দল দিয়ে তারা ফাংশন করতে পারছে না তারা পেছনে থাকা কিছু শিক্ষককে সামনে আনার চেষ্টা করছেন বিভিন্ন ব্যানারে। ‘বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ও এমন একটি ব্যানার। তবে যে নাম ও ব্যানারে হোক না কেন তাদের সামনে আসতে দেবে না ছাত্র সমাজ।’’

প্রকাশে তাদের কার্যক্রম চালানোয় সরকারের ব্যর্থতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকে ফুল দিতে গিয়েছেন তারা। সরকারের এজেন্সির কাছে এ নিয়ে সকল তথ্য আছে। তা হলে কেন ব্যবস্থা নিল না? নাকি ইন্টারনালি সরকার সুযোগ করে দিচ্ছি তাদের। যেভাবে আমরা দেখেছি নির্বাচনের পর লোকাল বিএনপির নেতা আওয়ামীলীগের অফিস খুলে দিতে। 

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জুলাই গণভোটকে যেভাবে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে এরকম যদি অবস্থা সুশীল হিসেবে নীল দলের শিক্ষকদের একটিভ করার চেষ্টা করে তাহলে তাদের পরিণতি আওয়ামী লীগের মতো হবে। আমরা বিষয়গুলো খোঁজ-খবর নেওয়া চেষ্টা করছি। কথা বলছি বিভিন্ন ফোরামে। যদি তারা আরও বাড়াবাড়ি করে ছাত্র-জনতা মিলে প্রতিরোধ করবো।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন ও সাদা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, জুলাইয়ে যারা হত্যা করেছে তাদের কর্ম আমরা কেউ ভুলিনি। জুলাইয়ের আগে এবং পরের পরিবেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন। একটা সময় ৫ বছর পরপর ক্ষমতার পালাবদল হত, তত্ত্বাবধায়ক আসত। কিন্তু জুলাইয়ে আওয়ামী লীগ যা করেছে তারপরও যদি তারা ও তাদের দোসররা ভুলে যায় তাদের কর্মগুলো, সেখানে কিছু করার নেই।

‘তবে আমরা সজাগ রয়েছি। আমরা যতটুকু জানি তারা অনলাইনে সভা করে যোগাযোগ করত। কিন্তু অফলাইনে সক্রিয় হওয়ার বিষয়টি জানতাম না। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে তাদের কর্মকাণ্ডের যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করব। তবে নিরীহ লোক যাতে শাস্তির আওতায় না আসে, অপরাধীনের শাস্তি হোক সেটাই চাইব; — যোগ করেন অধ্যাপক কালাম।'

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘ঈদের ছুটির মধ্যে দায়িত্ব নিয়েছি। এরপর স্বাধীনতা দিবসের ছুটি গেল। সংশ্লিষ্টদের ফাইলগুলা কোন অবস্থায় আছে, বিষয়টি জানতে ইতোমধ্যেই তদন্ত কমিটি ও শাখাকে বলেছি। আগামী রবিবার থেকে খুলবে অফিস; তখন বিষয়টি দেখবো। যদি সত্যিকারভাবে তাদের সম্পর্কে অভিযোগুলো যদি সত্য প্রমাণিত হয় এবং তদন্ত কমিটি কী রিপোর্ট দিয়েছে তার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’