৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১১

অধ্যক্ষ আজিজীর বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগে মাদ্রাসা অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটি

অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী  © সংগৃহীত

ময়মনসিংহের সদর উপজেলার কাতলাসেন কাদেরিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ নিয়ে অনিয়ম, নিয়োগসংক্রান্ত অভিযোগ, দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন) মো. শামিউল ইসলাম প্রামাণিক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব ও বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারী ফোরামের সভাপতি।

চিঠি সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসাটির আজীবন দাতা সদস্য আতাউর রহমান অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে একটি অভিযোগপত্র জমা দেন। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদসংক্রান্ত অনিয়ম, অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ ও দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ।

অধিদপ্তরের চিঠিতে বলা হয়, মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন ২০২২ সালের ১২ অক্টোবর অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন। তাঁর নিয়োগ ও শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদসংক্রান্ত অভিযোগসহ অন্যান্য অভিযোগ সরেজমিনে তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে।

গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশিক্ষণ) মো. চাঁদ মিয়াকে। কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন সহকারী পরিচালক মো. বুলবুল আহমেদ। সদস্যসচিব করা হয়েছে অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বেনজীর আহমেদকে।

চিঠিতে তদন্ত কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর দাখিলের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে ফেসবুক প্রোফাইলে চিঠির ছবি শেয়ার করে অধ্যক্ষ আজিজী লিখেন, ‘মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিডি (এডমিন) মো. সামিউল ইসলাম প্রামাণিকের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের হয়রানি ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলে সম্ভবত সন্ধ্যা ৭টার পর পোস্ট দিয়েছিলাম। অথচ রাত ১১টা ২২ মিনিটে আমার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে চিঠি আপলোড করা হয়েছে। সত্যি বলতে, আমি অনেক, অনেক ভয় পেয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার ও সম্মানের প্রশ্নে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা বন্ধ করব না। তদন্তের নামে চাপ সৃষ্টি করে কিংবা ফ্যাসিবাদী কায়দায় ষড়যন্ত্র করে আমার প্রতিবাদী কণ্ঠ স্তব্ধ করা যাবে না, ইনশাআল্লাহ। ভয় নয়, ন্যায়ের পক্ষে আমার প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।’